রাজকন্যা (১ম পর্ব)




দুপুরের খাওয়া শেষ করে একটা ঘুম দিলাম। ৪:০০ টা বাজে মাঠে যেতে হবে ফুটবল খেলতে। এমনি শখের বেসে ফুটবল খেলতাম। কিন্তু ঘুম থেকে আর উঠতে পারিনি। মোবাইলটা সাইলেন্ট করা ছিলো তাই আকাশের ফোন রিসিভ করতে পারিনি ২০+ কল দিয়েছিলো আকাশ। আকাশ হলো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। ছোট বেলা থেকেই আমরা একে অপরের ভাল বন্ধু। ঘুম থেকে উঠে আকাশকে ফোন দিলাম জানি আমার আজ বকা শুনতে হবে।
.
- কিরে মইরা গেছিলি?? 
- আরে ঘুমাই গেছিলাম।
- ঘুমাইলে কি ফোনটা রিসিভ করা যায় না?? 
- মোবাইল ভুলে সাইলেন্ট করে ঘুমাই পড়ছিলাম। তাই রিসিভ করতে পারিনাই।
- আচ্ছা ঠিক আছে। মার্কেটে আয় কথা আছে। 
- আচ্ছা আসতেছি। 
.
আমাদের আড্ডা মারার জায়গাটা ছিলো মার্কেটের চিপায়।এলাকার নামই ছিলো মার্কেট। আর আকাশদের বাসা ঐ খানেই ছিলো। মাঝে মধ্যে ওদের বাসার ছাদে গিয়ে পাশের বাসার মেয়েদের সাথে দুষ্টামি করতাম। দুষ্টামি বাঁদরামি করেই কাটছিলো আমাদের দিনকাল।
.
মার্কেটে গেলাম পরে আকাশ বললো ওদের গ্রামের বাড়ি যাবে সাথে আমাকেও যেতে হবে। অনেকদিনের প্লান ছিলো এটা। আকাশদের গ্রামের বাড়ি ছিলো বরিশাল। অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো লঞ্চ ভ্রমণ করার। তা অবশেষে পূরন হতে যাচ্ছে।আগামীকালই যেতে হবে বরিশাল। তো বাসায় জানালাম যে আগামিকাল যাচ্ছি।
.
আমি আর আকাশ লঞ্চঘাটে আসলাম। টিকিট নিয়ে লঞ্চের ভেতরে ঢুকলাম। আমার জীবনের প্রথম লঞ্চ ভ্রমণ ছিলো ঐ দিন। পুরো লঞ্চটা ঘুরে দেখতে লাগলাম। একটু পর কেবিনের ভেতরে গেলাম একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। লঞ্চ ছাড়ার সময় হয়ে গেছে আমি একটু কেবিন থেকে বাহিরে আসলাম। দেখছিলাম নদীর ঢেউ এমন সময় পাশের দিকে খেয়াল করে দেখলাম একটা পিচ্ছি বাবুকে। কত কিউট বাবুটা কাছে গেলাম বাবুটার গালে ধরে দুষ্টামি করছিলাম। একটু পর বাবুর বড় বোন আসলো যাকে দেখে আমার চোখ ফেরাতে পারছিলাম না।
.
আমি বাবুটার সাথে দুষ্টামি করতে শুরু করে দিলাম। অনেক ভাল লেগেছিলো পিচ্ছিটাকে। আমার আবার পিচ্ছি বাবু খুব ভাল লাগতো। আমার একটা পিচ্ছি ভাতিজা আছে ওর সাথে সবসময় থাকি। ও আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝে না। ঐ পিচ্ছিটাকে দেখেও ভাতিজার কথা মনে পড়ে গেলো। সাথে সাথে বাসায় ফোন করলাম আম্মুকে বললাম ইমো অন করতে।তারপর ভাতিজার সাথে কথা বললাম ভিডিও কলে। আসতে আসতে নেট খুব সমস্যা শুরু হয়ে গেলো। তাই আর বেশি কথা বলতে পারিনি।
.
সে ঐ খানেই দাঁড়িয়ে ছিলো। এতক্ষণ আমার পাগলামি দেখলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। আবার গেলাম সেই বাবুটার কাছে। দুষ্টামি করতে ছিলাম। তখন উনি কিছু একটা বললেন আমায়।
.
- এই যে !!!  
উপরে তাকালাম তার কথা শুনে।
- হ্যাঁ বলুন। 
- খুব পছন্দ করেন বাবুদের? 
- হ্যাঁ বিষন। ওর মতো আমার একটা ভাতিজা আছে। আচ্ছা বাবু কি হয় আপনার? 
- আমার ছোট বোন।
- কি নাম??
- আফিয়া। 
- খুব সুন্দর তো নামটা। আপনার নামটা কি??
- ইভা। আপনার?
- রিয়াদ। 
- ওহহহহ। তো কোথায় যাবেন?? 
- ফ্রেন্ডের সাথে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। আপনি?
- আমি আমাদের গ্রামের বাড়িতে যাবো।
- ওহহহহ। ভাল লাগলো কথা বলে।
.
বলে তাড়াতাড়ি চলে এলাম সেইখান থেকে। ভদ্র হওয়ার জন্য যাতে উনি ভদ্র মনে করেন। এমনিতে তাকে দেখে অনেক ভাল লেগে যায় আমার। কি সুন্দর চোখ, চুল গুলো বাতাসে উড়ছে আর সে তার হাতের আঙুল দিয়ে চুল গুলো সরিয়ে দিচ্ছে।আর চেহারা তো মাশাআল্লাহ্ অনেক সুন্দর। চলে আসতে ইচ্ছে করছিলো না তবুও একটু ভাব নিয়ে এসে পড়লাম।
.
কেবিনে গেলাম আকাশ ঘুমাচ্ছে। আর উঠিয়ে দিলাম না। আমি বারান্দায় চেয়ারের মধ্যে বসে বাতাস খাচ্ছিলাম আর নদীর স্রোত দেখছিলাম। আর তার কথা ভাবছিলাম কেনো জানি তার মুখটা আমার চোখের সামনে ভাসছিলো। জীবনে তো কখনো প্রেম করলাম না। কিন্তু কেনো জানি ইভাকে অনেক ভাল লেগে গেলো। চোখ বুঝে ভাবছিলাম তার কথা গুলো। হঠাৎ চোখ মেলে দেখি ইভা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
.
- আপনি? 
- হ্যাঁ আমি। চোখ বন্দ করে পাগলের মতো হাসছিলেন কেনো?? 
"মনে মনে ভাবতেছি যাহ শালা শেষে পাগল হয়ে গেলাম।"
- না এমনি একজনের কথা মনে পরে গেলো তাই হাসছিলাম।
- তো বসতে পারি এখানে?
হ্যাঁ অবশ্যই প্লীজ।
-তো কি করছেন আপনি? 
- ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছি। আপনি? 
- ফাস্ট ইয়ারে। তো আপনারা নামবেন কোথায়? 
- সেটা তো বলতে পারবো না। আমার বন্ধু বলতে পারবে।
- ওহহহহ আপনি ফেসবুক ইউজ করেন? 
- হ্যাঁ। আপনি? 
- হুমমম। আমার ফেসবুক আইডির নাম ইভা রাহমান।
- আচ্ছা এড দিচ্ছি।
- হুমমম। 
.
ফেসবুক আই ডি খুঁজে তার প্রোফাইল দেখতেছিলাম। একটা ছবিও নাই তার আর এমন ভাবে প্রাইভেসি দেয়া। যাইহোক অনেকটা সময় বসে ছিলো আমার পাশে। কথা বলতে বলতে সময় কাটছিলো। আর তার কথা বলা সময় গালে টোল পড়ছিলো যেটা তাকে আরো সুন্দর রুপে পরিণত করছিলো। কথা বলতে বলতে আকাশ এসে পড়লো। আমার পাশে ইভা কে দেখেই বলে ফেললো।
.
- কেমন আছিস ইভা?? 
- হুমমম ভাইয়া ভাল। তুমি কেমন আছো? 
- এইতো ভাল। আন্টি আসে নাই? 
- হ্যাঁ আম্মু তো ভেতরে বসে আছে। 
- আচ্ছা এখানে থাক আমি আন্টির সাথে দেখা করে আসছি।আর হ্যাঁ রিয়াদ ও আমার খালাতো বোন। আর ইভা ও আমার কলিজার টুকরার বন্ধু। 
- হুমমম 
.
আকাশ গেলো ইভার আম্মুর সাথে দেখা করতে। ভাবতেই অবাক লাগছে তাহলে আমরা একই বাড়িতে যাচ্ছি। ইভাকে দেখতে পারবো তাহলে সবসময়ই। একটু পর আকাশ আমাকে ইভার আম্মুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। যাক হবু শাশুড়ি বলে কথা। ধ্যাত মাথার মধ্যে ভুত চেপে গেছে কি সব উল্টা পাল্টা বলতেছি। তবুও অনেক বেশি খুশি লাগছে যা বলে বোঝাতে পারবো না।
.
.
.
📝 Ridoy Nadim (((AR PagLaaa)))

            

Comments