রাজকন্যা (৪র্থ পর্ব)



- এই যে?? 
- হুমমম বলুন। <ঘুম থেকে উঠে গেলাম>
- ঘুমাচ্ছিলেন??
- না এমনি একটু শুইয়েছিলাম।
.
মনে মনে ভাবছি কি মেয়েরে ভাই দেখছিলো ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুম থেকে উঠিয়ে  বলে ঘুমাচ্ছি নাকি। আমার একটা বদ অভ্যাস ছিলো ঘুমের মধ্যে কেউ ডাকলে তাকে গালাগালি করার। কিন্তু না কিছুই বললাম না তাকে। কি আর বলবো ভালবাসার মানুষটাকে কি বকা দেয়া যায়?  আমি তো তাকে অনেক বেশি ভালবাসি আমার জীবনের চেয়েও বেশি।
.
- ওহহহহ। দুপুরে না খেয়ে শুয়ে আছেন কেনো?
- ওহহহহ ভুলে গেছিলাম।
- এখন চলেন তাহলে
- সবাই খেয়েছে? 
- হ্যাঁ সবাই খেয়েছে শুধু আমি করিনি।
- কেনো??
- আপনি করেন নাই তাই আমিও করিনি।
- কেনো? 
- এত প্রশ্ন করছেন কেনো? তারা উঠে আসুন তো।আমি খাবার বাড়ছি তাহলে।
- আচ্ছা।
.
ইভা আমার জন্য এখনো লাঞ্চ করেনি। মনের মধ্যে কেমন জানি একটা ফিলিংস কাজ করতেছে যা বলে বুঝাতে পারবো না। তার মানে কি ইভা আমাকে ভালবাসে। পরে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। পরে খেতে বসলাম সাথে ছিলো ইভা। মনে হচ্ছিলো বউয়ের সাথে বসে খাচ্ছিলাম। একটু পর পর তার দিকে তাকাচ্ছিলাম। অনেক বার তার চোখে ধরা পরে গেছিলাম যে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিলাম তাকে। খাওয়া শেষ করলাম আমি আর ইভা।
.
পরে জানতে পারি আকাশ এবং আন্টি কোথায় যানি গেছে। পরে একসাথে বসে গল্প করছিলাম আমি আর ইভা। যখন ইভা কথা বলতেছিলো আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম। ইভা বার বার চোখ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিলো কিন্তু পরে আর পারেনি। আমার হাতের মধ্যে খুব জোড়ে একটা থাপ্পড় দিলো। পরে জানতে পারলাম হাতে নাকি মশা বসছিলো।হুদাই কোনো মশা বসে নাই ইভা ইচ্ছে করে আমার হাতে থাপ্পড় দিয়েছে।
.
-আচ্ছা আপনার পরিবারে কে কে আছেন? 
- বাবা-মা, বড় ভাই এবং আমি। আপনার? 
-আমি,আম্মু-আব্বু আর ছোট বোন আফিয়া।
- আংকেল আসলো না যে। 
-আব্বু অফিসের কাজে ব্যস্ত অনেক তাই আসেনি।
- ওহহহহহ। তারপর?? 
- তারপর কি? 
- বাসা কোথায় আপনাদের? 
- মার্কেটের ঐ জায়গাতেই। আপনার?
- আমাদের ও। কিন্তু কখনো তো দেখতে পাইনি আপনাকে?? 
- আমিও তো দেখি নাই কখনো আপনাকে।
- ওহহহহ। আচ্ছা।
.
কিছুক্ষন পর আন্টি আসলো। আন্টির সাথেও অনেক কথা বললাম। আমি আন্টি আর ইভা একসাথে কথা বলতেছিলাম। একটু পর বাসা থেকে কল আসলো মা দিয়েছিলো কল। রুমের ভেতরে নেট না থাকার কারনে রুমের বাহিরে এসে কথা বলতে হলো।
.
- কেমন আছো মা? 
- হুমমম বাবা ভাল আছি। তুই কেমন আছিস? 
- এইতো মা ভাল আছি।
- দুপুরে খাওয়া দাওয়া করছিস? 
হ্যাঁ মা করছি। তোমরা করছো?  
- করছি। ঢাকায় ফিরবি কবে?
- আকাশ তো বললো এক সপ্তাহ থাকবে।
- আচ্ছা সাবধানে থাকিস। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করিস।
- আচ্ছা মা। তোমারাও ভাল থাইকো। 
.
পিছনে তাকিয়ে দেখলাম ইভা দাড়িয়ে আছে। হাসছিলো  আমার কথা শুনে। পরে বললো ঘুরতে যাবে সে পরে আমি আকাশকে কল দিলাম। ওহ একটু পর আকাশ আসলো পরে তিন জন একসাথে হাটছিলাম। আকাশ সামনে ছিলো আমি আর ইভা পিছনে। ইচ্ছে করছিলো আজই বলে দেই না বলা কথাটা। কিন্তু পরে ভাবলাম আর একটু সময় নেই। কিছুদিন পরই না হয় বললাম।
.
নদীর পাশে গেলাম । ছোট বেলা থেকেই নদী দেখতে খুব পছন্দ করতাম। নদীর পাশে যেয়ে বসে বাতাস অনুভব করতাম। অনেক ভাল লাগতো। ঐ দিনও নদীর পাশে যেয়ে বসলাম সাথে ছিলো আকাশ আর ইভা। একটু পর আকাশ একটু অন্যদিকে গেলো আমাদের জন্য। পরে আমি আর ইভা বসে আছি পাশা-পাশি। বাতাসে ইভার চুল গুলো চোখে-মুখে লাগছিলো। আধা ঘন্টার মতো বসে ছিলাম আমরা। আবহাওয়াটা অস্থির ছিলো মানে অনেক ভাল লাগছিলো আবহাওয়াটা।
.
- কিরে হইছে নদী দেখা? 
- না হয়নাই। তুই এখন আসলি কেনো??  
- হ্লার পো। তুই এখানে প্রেম করবি আর আমি তোদের পাহারা দিমু? 
.
কথা শুনে ইভা একটু লজ্জা পেয়ে যায়। ইভা পরে উঠে গেলো আমার পাশ থেকে। আমিও লজ্জা পেয়ে যাই ইভা সাথে ছিলো তার সামনে আকাশের এই কথা শোনাটা সত্যি লজ্জা পাওয়ার মতোই।পরে ঐখান থেকে এসে পড়তে ছিলাম আর আমি তো আকাশের পিঠে তিন চার কিল-ঘুষি দিয়েও দিছিলাম। পরে বাসায় এসে পড়ি আমরা। ইভাকে বাসায় দিয়ে আমরা আবার বের হলাম।
.
বাজারে গেলাম চা খেতে।আমাদের আবার চা না খেলে ভালই লাগতো না।চা খাচ্ছিলাম আর টিভি দেখছিলাম দোকানে বসে। একটু পর আকাশের মোবাইলে কল আসলো। পরে জানতে পারলাম ইভা কল দিয়েছিলো। আকাশ আমায় বলে..
.
- তোর বউ কল দিছে। 
- কেনো??
- ক্যাট-ব্যারি চকলেট খাইবো। নিয়ে যেতে বললো। 
- সমস্যা কি নিয়ে গেলাম। চকলেট খেতে চাইছে আমার বউ নিলাম। তুই এখানে বস আমি নিয়ে আসতেছি চকলেট। 
- আচ্ছা যাহ।
.
২০ মিনিট পর আসলাম। কিন্তু একটা দোকানেও চকলেট পাইলাম না। মেজাজটা গরম হয়ে গেলো। ইভা চকলেট খেতে চাইছে আর আমি নিয়ে যাবো না। যেখান থেকে পারি চকলেট আজ নিয়ে যাবোই যাবো।
.
- এই হ্লা একটা দোকানেও পাইলাম না। 
- হাহাহা। পাবিও না এখানে। 
- অহন কি করমু? কই পামু চকলেট?
- শহরের দিকে যেতে হবে।
- বইসা আছোত কেন। চল তারা-তারি যাই।
- তুই আসলেই একটা পাগল হ্লা।
- যাহ কওয়ার (বলার) পরে কইছ (বলিস) কিন্তু এখন চল দোস্ত প্লীজ। 
- আচ্ছা আয়।
.
পরে যাচ্ছিলাম সামনে একটা দোকান দেখতে পেলাম। ঐখানে যেয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। পরে চকলেট পেলাম। এক বক্স ছিলো সব গুলোই নিয়ে নিলাম। যাইহোক শহরে যেতে হয়নাই আর। কিন্তু রাত হয়ে গেছিলো অনেক। বাসায় যেয়ে ইভার কাছে চকলেট গুলো দিলো আকাশ। খুব খুশি হয়ে গেলো চকলেট দেখে। আমি দিতে চাইছিলাম কিন্তু লজ্জায় দেই নাই আমি।
.
পরে আমাকে দুইটা চকলেট দিলো আর আকাশকে একটা দিলো। আমার খুব হাসি পাচ্ছিলো তখন আকাশের মুখটা একেবারে অসহায়ের মতো হয়ে লাগছিলো। পরে আমার থেকে একটা আকাশকে দিয়ে দিলাম আর বাকিটা ইভার স্মৃতি হিসেবে রেখে দিলাম।পরে যানতে পারি ইভার খুব পছন্দ ক্যাট-ব্যারি চকলেট। পরে আকাশ ইভাকে বলে দিছিলো আমি এনেছি চকলেট। কিন্তু আকাশকে বারন করেছিলাম না বলার জন্য কিন্তু বলে দিছে।
.
- ধন্যবাদ এত্ত গুলা।
- এত ধন্যবাদ কেনো? 
- ঐ যে আমাকে চকলেট গিফট করার জন্য।
- আপনার পছন্দ অনেক? 
- হুমমম বিষণ পছন্দ আমার।
- ওহহহহহ। 
.
তখনও চকলেট খাচ্ছিলো একটু ভেংগে আমাকে খাইয়ে দেয়।সত্যি কি যে ভাললাগছিলো তখন আমার বলে বোঝাতে পারবো না। মনে হচ্ছিলো আকাশ থেকে চাঁদটা আমার হাতের মুঠোয় পেয়ে গেছি । হ্যাঁ ইভা চাঁদের মতোই দেখতে ছিলো। যে চাঁদটা আমাকেই শুধু জোছনা দিয়ে যেতো। ভালবাসি খুব আমার জোছনাকুমারীটা কে।
.
.
.
📝 Ridoy Nadim (((AR PagLaaa)))

Comments