রাজকন্যা (৯ম পর্ব)



এভাবেই কেটে যায় ১ টি বছর। এই ১ বছরে মনে হয় ভালবাসা টাও আরো ১ হাজার গুন বেশি বেড়ে গেছে আমাদের। আমার ইন্টার কমপ্লিট হয়ে গেছে আর আমার রাজকন্যা এইচ এস সি পরিক্ষার্থী। বড্ড ভালবাসি দু'জন দু'জনাকে। এবং ভালবেসে যাবো শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত।
.
দুজনের পরিবারই আমাদের সম্পর্কটা যেনে যায়। এবং তাদের মন্তব্য ভাল ছিলো আমাদের প্রতি। যার কারনে আমাদের সমস্যা হয়নি। আর মনের ভালবাসা কখনো মিথ্যে হতে পারে না।
.
- হ্যালো বাবু।
- হুমম পাগলি
- কি করো??
- তোমার সাথে কথা বলি।
- আর কিছু করো না??
- তোমাকে মিস করি।
- ওহহহহহ মিস করলে কি হয়?
- মিস করলে ভালবাসা বেড়ে যায়।
- সত্যি??
- হুমম সত্যি।
- আই লভ ইউ
- লভ ইউ টু।
- আচ্ছা তাহলে ঘুমিয়ে পরো। কাল কথা হবে।
- আচ্ছা শুভ রাত্রি।
- _______। 
- ________।
.
বুঝতেই পারছেন (_____) এটা কেন দিলাম। কথা বলছিলাম আমার রাজ কন্যার সাথে। প্রতি ৫ মিনিট পর পর পর ফোন করে জিজ্ঞাসা করাটা মনে হয় রুটিন হয়ে গেছিলো। খুব ভাল লাগতো এই জিনিষটা। পরের দিন তার পরিক্ষা ছিলো একটা তাই আর বেশি কথা বলিনি। ঘুমিয়ে পড়ি দু'জনেই তাড়াতাড়ি কারণ কাল আমাকেই নিয়ে যেতে হবে তার কলেজে।
.
ঘুম থেকে উঠে পড়লাম এলার্মের আওয়াজে। সকাল ৮:০০ টা বাজে ৯:০০ টার মধ্যে তাকে নিয়ে কলেজে যেতে হবে। আমার সাথে গেলে নাকি তার পরিক্ষা অনেক ভাল হয়। তাই আমি তার সব গুলো পরিক্ষার সময়ই যেতাম তার সাথে। এবং পরিক্ষা শেষে বাসায় দিয়ে আসতে হতো তাকে। এভাবেই কাটছিলো আমাদের দিনকাল।
.
- কেমন হলো পরিক্ষা?? 
- অনেক অনেক ভাল হয়েছে।
- সত্যি?? 
- হুমম সত্যি। তুমি বলেছিলা পরিক্ষা ভাল হলে ফুচকা খাওয়াবে। 
- কখন বলে ছিলাম??
- এই ভুলে গেছো তুমি??
- হুমম। এত কিছু কি মনে রাখা যায়??
- চল ফুচকা খাবো। খুব খিদে পেয়েছে আমার।
- আগে বলবে না তুমি। তোমার খিদে পেয়েছে। চল তাড়াতাড়ি।
.
ফুচকার দোকানে গিয়ে ফুচকা নিলাম। আমার রাজকন্যা ফুচকা খাচ্ছিলো আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম। পুরো পিচ্ছি বাবুদের মতো ফুচকা খাচ্ছিলো ইভা। আর তার একটাই কথা দুই প্লেট ফুচকা নিতে পারবো না। শুধু তার জন্যই নিতে হবে এক প্লেট। ঐ খান থেকেই আমাকে খাইয়ে দিবে তার নিজ হাতে। মাঝে মাঝে তার পাগলামি গুলো অনেক ভাল লাগতো।
.
- বাসায় যাবে এখন??
- উঁহু এখন যেতে ইচ্ছে করছে না।
- তাহলে কি করবো?? 
- চলো কোথাও থেকে ঘুরে আসি। তুমি আম্মুকে জানিয়ে দাও ফোন করে। 
- আচ্ছা দিচ্ছি।
- আচ্ছা আমার পরিক্ষা শেষ হলেই তো এংগেজ হয়ে যাবে আমাদের তাই না??
- হুমম তখন তো তুমি আমার বউ হয়ে যাবে।
- কেনো এখন কি তোমার বউ না?? 
- হ্যাঁ তুমি তো আমার বউ। আমার পাগলি বউ তুমি।
- হুহ।যাও তোমার সাথে কথা নেই।
- কেন কি করলাম আমি?
- না কিচ্ছু করো নাই তুমি।
- এই রাগ করেনা প্লীজ।
- আমি রাগ করিনি।
.
সাথে সাথে তার ডান হাতটি ধরে ফেললাম। এটা আমার জানা ছিলো। সে যতই রাগ করুক না কেনো। তার হাত ধরে সরি বললেই সব ঠিক হয়ে যেতো। আমিও প্রতিবারের মতো ঐ কাজটাই করলাম। তার হাতটি ধরে হাটছিলাম রমনাপার্কে। জায়গাটা অনেক সুন্দর ছিলো। ঐখানে প্রায়ই সময়ই যেতাম ইভার খুব পছন্দের জায়গা ছিলো বলে।
.
কিছুক্ষন থাকলাম ঐখানে তারপর বাসার সামনে দিয়ে এসে আমিও আমাদের বাসায় এসে পড়ি। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। খাবার নিয়ে ভাবি বসে আছে খাবারের টেবিলে। পরে একসাথে বসে খেয়ে নিলাম।
কিছুদিন পরেই আমার আর ইভার এংগেজ করে রাখার কথা হয়ে আছে।
.
- কি দেবরজি কেমন কাটছে দিন-কাল?
- হুমম ভাবি ভালই কাটছে।
- ভাল তো কাটবেই। 
- হুমম। 
- ইভাকে নিয়ে আইসো আগামীকাল।
- কেনো ভাবি??
- কাল তোমার ভাতিজার জন্মদিন। ভুলে গেছো? 
- ওহহহহ সিট। আসলেই ভুলে গেছিলাম ভাবি।
- কাল নিয়ে আইসো বাসায়।
- বিয়ের আগে এতবার বাসায় আসলে লোকজন কি বলবে?
- বিয়ে করতে করতে আরো পাঁচ বছর পর। এত তাড়াতাড়ি বিয়ের স্বপ্ন দেইখো না। যা বলছি তাই করো।
- পাঁচ বছর কবে যে শেষ হবে।
- তুমি তো দেখি পুরাই পাগল হয়ে গেছো।
.
বলেই ভাবি আমার মাথায় হাত দিয়ে চলে গেলো। আসলেই পুরো পাগল হয়ে গেছি। আর কাল তো আমার ছোট বাবার জন্মদিন। ইভাকে তো নিয়ে আসতেই হবে বাসায়। কিন্তু লজ্জা লাগে কারন কাল আমার আত্বীয়রা অনেকেই থাকবে। কি আর করার তার মাঝে আবার আমার ভাবির আদেশ মানতে তো হবেই।
.
ফোন করে জানিয়ে দিলাম ইভাকে। ইভা তো খুব খুশি বাসায় আসার কথা শুনে। আর ইভা ভাবির সাথে অনেক ফ্রি। তারা দু'জনে মিলে আমাকে রাগাতে খুব ভাল লাগে। আমিও একটু একটু রাগি। বেশি রাগিনা কারণ একটু রাগিয়ে অনেক গুলো আদর করে দেয় তাই।
.
পরেরদিন ভাবির ডাকে ঘুম ভাংগে। ঘুম থেকে উঠতেই এত বড় এক বাজারের লিস্ট ধরিয়ে দিলো। আমি কখনো বাজার করিনি সেদিনই প্রথম বাজারে যাই। এবং ভাল দেখে একটা কেকের অর্ডার দিয়ে আসলাম। বাসায়  নিয়ে আসলাম ভাবি যা যা আনতে বলেছিলো।
.
রুমের মধ্যে ডুকতে না ডুকতেই ভাবির আদেশ। ইভাকে নিয়ে আসতে হবে বাসায়। কি আর করার বাধ্য ছেলের মতো চলে গেলাম ইভাদের বাড়িতে। আন্টি আংকেল কে সালাম দিলাম।পরে ইভার রুমে যেয়ে বসে পরলাম। ইভাকে বলেছিলাম নীল শাড়িটা পড়ার জন্য। কারণ নীল শাড়িতে আমার রাজকন্যা টাকে নীল পরির মতো লাগে।
.
- এই তুমি এসে পড়েছো?? 
- হুমম আসলাম। 
- আচ্ছা তুমি বসো। আমি আফিয়াকে রেডি করে দেই।
- এই শোনো না।
- হুমম বলো। 
- একটু বসো না পাশে।
- আচ্ছা বসছি। 
- হুমম একটু বসে থাকো। তোমাকে একটু দেখি আমি। 
- হুমম আচ্ছা দেখুন জনাব।
.
তাকিয়ে যেনো চোখ ফেরাতেই পারছিলাম না। কি অপরুপ মায়াবী তার চোখ। একটু পরেই মোবাইলটা বাজতে শুরু করলো। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি ভাবির ফোন। রিসিভ করতেই কি ঝাড়ি।
.
- হ্যালো
- কি এতক্ষন লাগে আসতে?
- ভাবি। ইভা সাজুগুজু করতে করতে একটু দেড়ি হয়ে যাচ্ছে। 
- আচ্ছা তাড়াতাড়ি নিয়ে আসো বাসায়। 
.
বলেই ইভার হাত ধরললাম যাতে ও রাগ না করে। সে আমার কাহিনী দেখে হেসে দিলো। শেষে "পাগল একটা " বলে রুম থেকে চলে যায় আফিয়াকে রেডি করার জন্য। একটু পরই আন্টি আসলো কিছু নিয়ে। বিয়ে না হতেই জামাই আদর পেয়ে যাচ্ছি। এরকম কপাল কয় জনেরই বা হয়।
.
পরে তাদের বাসা থেকে বের হলাম। আকাশকে বলে দিছিলাম মার্কেটের কাছা-কাছি থাকার জন্য। পরে আমাদের বাসায় গেলাম সবাই। ভাবি ইভাকে দেখে খুশি হয়ে গেছে মনে হলো। আকাশ আর আমার দায়িত্ব দিয়ে দিলো সব কিছুর। আমার আর দায়িত্ব পালন করা হলো না। সব দায়িত্ব আকাশকেই পালন করতে হলো।
.
এইদিকে আমি আমার বউয়ের সাথে কথা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।আর মনে মনে ভাবছিলাম সবার কাছে কিভাবে পরিচয় করাবো। ইভার থেকে লজ্জা আমার বেশি হচ্ছিলো কেনো জানি। সবাই এসে পড়েছে। পরে ভাবি সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল তাকে। আমি চুপ-চাপ অন্যদিকে কাজ নিয়ে ব্যস্ত করে রাখি নিজেকে।
.
অবশেষে শেষ হলো পার্টি। রাত বেশি হয়ে যাওয়ার কারনে আমাদের বাসায় থাকলো আমার রাজকন্যা। সেইদিন রাতে আমরা সবাই মিলে আড্ডা দেই। আর ভাবি একটু পর পর আমার দিকে হাসছে। কারণ আমি ইভার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। কেনো জানি পলক ফেরাতেই পারছিলাম না। পরে আমি উঠে যেয়ে ইভার পাশে বসি। তার হাতটি ধরে রাখলাম। এভাবে সারা-রাত আড্ডা দিলাম সবাই মিলে। কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছিলাম বুঝিনি।
.
ঘুম থেকে উঠে দেখি ইভা আমার কাঁধের মধ্যে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে। আমি সেই অবস্থাতেই তার ঘুমানোর চেহারাটা দেখছিলাম।এক এক জন এক জায়গায় ঘুমাচ্ছিলো। একটু নড়া-চড়া করতেই ইভা জেগে গেলো।
.
- ঘুমাওনি তুমি??
- হ্যাঁ ঘুমিয়েছি তো। 
- মাত্র ৬ টা বাজে। কখন উঠেছো?
- এইতো একটু আগেই। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।
- হুমমম। (ঘুম ঘুম কন্ঠে)
.
আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে। আমি জেগে জেগে পাহারা দিচ্ছিলাম। যাইহোক অনেক ভাল লাগছিলো তখন। আমার রাজকন্যা আমার বুকে তার মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। এর চেয়ে সুখ আর কি আছে পৃথিবীতে। ভালবাসি ভালবাসি তাকে ভালবাসি।
.
.
.
📝 Ridoy Nadim (((AR PagLaaa)))

Comments