কোলবালিশ (রম্য)




সিংগেল ছেলেদের কষ্টটা ঠিক তখনই বোঝা যায় যখন ঘুমানোর সময় পাশে বউ এর বদলে কোলবালিশটা থাকে। আর এই কোলবালিশটাকেই নিয়েই আমরা ঘুমিয়ে থাকি।কোলবালিশটা আগলে রেখে যখনই ঘুমায় ঠিক তখনই কারো না কারো কথা ভেবে থাকি।আমরা বলতে পারি কোলবালিশ হচ্ছে সিংগেল ছেলেদের বউ।কোলবালিশ আমাদের মতো সিংগেল ছেলেদের যে অত্যাচার সয্য করে ঐটা বিবাহিত বউও সয্য করতে পারবে কিনা সন্দেহজনক।
.
এখন আসল কথায় আসি।ঘটনাটি ঘটে ছিলো বেশ কিছুদিন আগে। যার কারণে সবার কাছে এমন লজ্জাবশত হতে হয়েছে।প্রতিদিনকার মতো করে সেইদিনও ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ 
.
- কিগো সারাদিন কি ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিবে?
- দিন শুরু না হতেই শেষ করে ফেলছো কেনো?
- আরে উঠো না। আজ না বাবার বাসায় যাওয়ার কথা ছিলো।
- হুম ছিলো। তাই বলে কি ফজরের সময় বাবার বাসায় যেতে হবে? সারা রাত কি এই চিন্তায় ঘুমাও নাই নাকি?
- ঘুম না আসলে ঘুমাবো কিভাবে?
- হুমম বুঝলাম।যাও রেডি হতে থাকো তাহলে।তোমাদের মেয়েদের তো আবার ময়দা মাখতে ৪-৫ ঘন্টা লেগে যায়।
- ছি এরকম নোংরা কথাটা বলতে পারলে?
- কথা তেতো হলেও সত্যি। আর সত্যি কথা সবারই তেতো লাগে।
- সকাল সকাল তোমার সাথে ঝগড়া করে মন খারাপ করতে চাইনা। আচ্ছা আমি গেলাম রেডি হতে।তুমিও উঠে পরো।
- হুমম যাও ভাল মতো ময়দা মেখে নিও আর আমাকে ২০ মিনিট পর ডাকবে তোমার রেডি হওয়ার পর।
- পারবো না। আজাইরা একটা লোক তুমি।
- ভাল হইছে এইবার যাও।আর আমাকে ঘুমাতে দেও।
.
কোথাও ঘুরতে বের হওয়ার আগে মেয়েদের সাজুগুজু করতে যে সময় লাগে ততক্ষণে হয়তো ছেলেরা দুই বার ঐ জায়গা থেকে ঘুরে এসে পরতে পারবে তবুও মেয়েদের সাজুগুজু কমপ্লিট হবে না।
.
সে সাজছে এইদিকে আমি ঘুমাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর আবার ডাকাডাকি শুরু হলো।
.
- এই দেখো না এই
- আবার কি হলো?
- দেখো না কোন শাড়িটা পরবো?
- তোমার যেটা মন চায় সেটাই পরো গিয়ে।
- আমার তো লাল,নীল এবং হলুদ এই তিনটা শাড়িই খুব পছন্দের।
- তাহলে তিনটাই পরো না।এত জ্বালাচ্ছো কেনো?
- আমি তোমাকে জ্বালাই। এটা তুমি বলতে পারলে?
- ভুল হয়ে গেছে বইন মাফ চাই।তুমি যাও রেডি হয়ে নাও।আমাকে আর একটু ঘুমাতে দাও প্লীজ।
- আচ্ছা ঘুমাও।
.
হায়রে এইডা কি বউ নাকি মেশিন?একটু পর পর এসে কানের সামনে মেশিনের মতো শব্দ করে কেনো। আগে জানলে সারাজীবন ব্যাচেলরই থাকতাম।বিয়া করে মানুষ শান্তি মতো ঘুমানোর জন্য আর এখন অশান্তির মতো ঘুমাতে হয়।
.
কিছুক্ষণ পর ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম এবং রেডি হলাম। বাহ বউটাকে ধারুন লাগছে শাড়িতে। আদর করতে ইচ্ছে করছে।
.
- সুইট হার্ট
- কি হইছে?
- তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে। 
- ভাল হইছে।
- তুমি কি রেগে আছো জানপাখি?
- তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বের হও।
- আচ্ছা।একটা কথা শুনে যাও।
- কি বলবা? বলো
- কানে কানে।
- এত আলগা পিরিত দেখানোর দরকার নাই।যা বলার এমনেই বলো কানে কানে বলতে হবে না।
- না থাক কিছু না।
.
এই কি এমন করে কেনো। এতক্ষণ আমাকেই জ্বালাচ্ছিলো আর এখন এতো ঢং দেখাচ্ছে কেনো।মেয়ে জাতই এমন সেকেন্ডে সেকেন্ডে পরিবর্তন হয়।বাসা থেকে বের হলাম পরে।
.
বাসে উঠলাম তাকে দিলাম জানালার পাশের সিটে আর তার পাশে বসলাম আমি। কি সুন্দর লাগছিলো নীল শাড়িতে তাকে। মেয়েদের শাড়িতেই সব সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে।আর সেই সৌন্দর্য আমি আড় চোখে তাকিয়ে দেখছিলাম।
.
- কি সমস্যা কি তোমার?
- কি কিসের সমস্যা? কোনো সমস্যা নাই তো।
- এভাবে তাকিয়ে কি দেখো? কখনো দেখো নাই আমাকে?
- হুমম দেখছি তো।তবে আজ একটু বেশি সুন্দর লাগছে।ময়দা বেশি মেখে ফেলেছো মনে হয় তাই।
.
কথাটা বলেই জিহ্বাতে একটা আস্তে করে কামড় মারলাম।আর আমার কথা শুনে কালনাগিনীর মতো রেগে গেলো।আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম।চুপ-চাপ বসে রইলাম। বাস চলছে আমাদেরও ঝগড়া চলছে।একটু পর দেখি আমার কাঁধে তার মাথা রেখে চোখ বুঝে আছে ঘুমাচ্ছে হয়তো। 
.
জানালার পাশ দিয়ে বাতাস আসছে আর তার মাথার চুল গুলো উড়ে আমার নাকে মুখে লাগছিলো। উফ সেই ভাল লাগছিলো। আমি তার কপালে আলতো করে একটা চুমো খেতে যাবো ঠিক তখনই বাস ব্রেক করলো আর সাথে সাথেই আমার ঘুমটাও ভেংগে গেলো।
.
উঠে বসে রইলাম।বুকটা ধুব ধুব করছিলো।আর এতক্ষণ তাহলে স্বপ্নই দেখছিলাম। হায়রে স্বপ্নের মধ্যেও এমন ঝাড়ি শুনতে হলো। পাশে কোলবালিশটার দিকে তাকাচ্ছি আর হাসছি।
.
.
.
Ridoy Nadim (((AR PagLaaa)))

Comments