
- বাবারে আমার আমার ঔষুধ গুলো একটু এনে দেনা।
- এখন পারবো না মা। পরে এনে দিবো নে।
- মনে করে একটু এনে দিস তাহলে।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
.
কিছুক্ষণ পরেই রিয়াদের ফোন,
.
- দোস্ত কেমন আছিস?
- আলহামদুলিল্লাহ্ দোস্ত অনেক ভাল আছি। তুই কেমন আছিস?
- এইতো তোদের দোয়াতে ভাল আছি। আন্টি আংকেল কেমন আছেন?
- তারাও ভাল আছেন। তো দেশে আসলি কবে?
- এইতো গত পরশু আসলাম।
- ওহহহহহ ভালই তো চলছে তোর দিন কাল।
- হুমম চলছে। শোন হৃদয় যে কারণে তোকে ফোন দিয়েছি। আগামীকাল কক্সবাজার যাচ্ছি। তোকেও যেতে হবে কিন্তু আমাদের সাথে।
- না রে দোস্ত..
- কোনো না না হবে না। এইবার যেতেই হবে। আমি টিকিট কেটে ফেলছি। আগামীকাল রাত ১১:৩০ টায় বাস ছাড়া হবে।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
- তাহলে কাল দেখা হচ্ছে। কেমন!
- হুমম ইনশাআল্লাহ।
.
হাতে টাকাও নাই বেশি এর মধ্যে রিয়াদের কথাও ফেলতে পারবে না। এমনিতেই টেনে টুনে সংসার চলে। কিভাবে কি হবে? ভাবতেই তার মাকে গিয়ে বলে হৃদয়।
.
- মা কিছু টাকা লাগবে আমার
- কি করবি টাকা দিয়ে?
- মা রিয়াদ আসছে দেশে। আর রিয়াদ বলছে আগামীকালই কক্সবাজার যাবে। টিকিট ও কেটে রাখছে।
- ওহহহ। কতো টাকা লাগবে?
- এইতো ৪-৫ হাজার হলেই হবে।
- এতো টাকা তো আমার কাছে নেই বাবা।
- আমার লাগবেই। জানিনা কিছু আমি।
.
বলেই রুম থেকে বের হয়ে যায়। মাঝে মাঝে নিজের জিদ গুলো খুবই বেমানান লাগে। সবই বুঝে শুনে কেনো যে এরকম পাগলামি করে ফেলে। তা নিজে নিজেই ভাবে পরে কিন্তু পরে ভেবে আর কি হবে? একটা প্রবাদবাক্য আছে,
.
"ভাবিয়া করিও কাজ
করিয়া ভাবিও না"
.
আসলে হাজার বার ভেবে চিন্তে একটা কাজ করাই ভাল। না ভেবে কাজ করাটা বড্ডো বেমানান। এটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না।
.
- মা টাকা মেনেজ হইছে?
- এইনে টাকা
- কতো দিলে। ৩ হাজার টাকা দিয়ে কি হবে?
- আমার কাছে আর নাই। দুই হাজার টাকা ঔষুধের জন্য রেখেছিলাম। আর ১ হাজার টাকা তোর বাবার কাছ থেকে চেয়ে রেখেছি।
.
টাকাটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে নিজের রুমে এসে বসে রইলো। একটুও ভাবেনি যে,তার মা তার ঔষুধের টাকাটা তাকে দিয়ে দিলো। তারপরেও তার সামনে কিভাবে টাকাটা ছুড়ে ফেলে দেয়! সকল মা-বাবারাই চান তার সন্তান আনন্দে থাকুক। তারা তাদের আনন্দ টুকু বিলিয়ে দেয় তার সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তারপরেও আমাদের মন ভরে না।
.
কিছুক্ষণ পর তার মা আসে রুমে,
.
- নে টাকা।
টাকাটা পেয়ে যেনো মনে হচ্ছিলো আকাশের চাঁদটা হাতে পেয়েছে। কিন্তু টাকাটা কিভাবে কোথা থেকে মেনেজ করলো তা একবারও ভাবলো না। আসলে আমরা এমন কেনো? আমাদের মনটা কি কখনো কারো কষ্ট বুঝবে না?
.
সেইদিন রাতেই রওনা দেয় কক্সবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে। খুবই আনন্দিত ছিল। রিয়াদের সাথে গল্প করতে করতে গিয়ে পৌঁছে। একটা বারও মা-বাবার কথা মনে পরেনি তার। অথচো মা-বাবা প্রায়ই সময় ফোন করে খবর নিয়েছে। ভালমতো গিয়ে পৌঁছেছে কিনা, খাচ্ছে কিনা, কিন্তু একটা বারও জিজ্ঞাসা করেনি যে, তারা খেয়েছে কিনা।
.
হায়রে মানুষ এরকমটা স্বার্থপর কিভাবে হতে পারে? আসলেই মানুষ সুখে থাকলে আল্লাহ্র নামও ভুলে যায়। যে তাকে পৃথিবীর মুখ দেখিয়েছেন তাঁদেরকেই না ভুলার কি!
.
৩ দিন পর বাসায় ফিরছে। বাসায় ফিরে দেখে বাসার মধ্যে অনেক মানুষ। এতো মানুষ কেনো বাসায়? মনের মধ্যে বার বার প্রশ্ন হচ্ছে হৃদয়ের। তাড়াতাড়ি করে রুমের ভেতরে ঢুকে। গিয়ে দেখে বিছানার উপর সোজা করে কেউ শুয়ে আছে। তার গায়ে সাদা কাপর দিয়ে ডাকা।
.
কাপরটি সড়িয়েই দেখতে পায় তার মায়ের মুখটি। ঘুমিয়ে আছে তার মা। এভাবে কখনো ঘুমিয়ে থাকতে দেখিনি তাকে। বাহিরে গেলে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার মা কখনো ঘুমায়নি। কিন্তু আজ তার মা ঘুমিয়ে আছেন। কান্না করতে লাগলো তার মায়ের পাশে দাড়িয়ে। মা কখনো এভাবে তাকে কাঁদতে দেখিনি। কারণ সবসময় তাকে হাসি-খুশিতেই দেখেছেন।
.
পরে জানতে পারে তার মা হার্ট এটাক করেন। তার মা হার্টের রোগী ছিলেন। তার ফোন বন্ধ থাকায় দুইদিন যোগাযোগ হয়নি। আবার ঔষুধও শেষ হয়ে গেছিলো। এভাবে তাকে রেখে কিভাবে ছেড়ে চলে গেলো।
.
হৃদয়ের কাধে তার মায়ের খাট। আর কখনো কারো সাথে কথা বলবে না। আর কখনো হৃদয় বলে ডাকবে না। শুধু মায়ের স্মৃতি গুলোই নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে হৃদয়ের।
.
এখন তার সব কিছুই আছে বাড়ি, গাড়ি, টাকা, পয়সা। শুধু তার মা নেই।
ভালো থাকুক হৃদয়ের মা। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মা রা।
.
.
.
গল্পের চরিত্রের সাথে নাম ছাড়া আমার নিজের কোনো মিল নেই। তবে অনেক মানুষ আছে যারা মা-বাবাকে কষ্ট দেয়। শুধু মাত্র তাদের জন্যই এই লেখাটি। দয়াকরে তাদের কষ্ট দিবেন না যারা আপনাকে আমাকে পৃথিবীর মুখ দেখিয়েছেন।
Ridoy Nadim (((AR PagLaaa)))
Comments
Post a Comment