((পিছুটান))




- আচ্ছা আপনার সমস্যাটা কি? বলেন তো।
- না কোনো সমস্যা নেই তো।
- তাহলে প্রতিদিন আমার পিছু পিছু আসেন কেনো?
- পিছু পিছু আসি? 
- আজিব তো। আপনি নিজে জানেন না?
- হুমম জানি তো।
- তাহলে কেনো আসেন?  
- এমনি ভাল লাগে।
- আর আসবেন না।
- আচ্ছা।
.
বাড়ির গেইটের ভেতর ঢুকে যায় কথাটি বলে। পিয়া জানে যে ছেলেটাকে বলেও কিছু হবেনা। গত এক বছর ধরেই বলছে আর পিছু আসবে না। তবুও প্রতিদিন পিছু পিছু আসাটা যেনো তার রুটিন হয়ে গেছে। পিয়াও কিন্তু মনে মনে খুব খুশি হয় যখন রিয়াদ তার পিছু নেয়। কিন্তু সবসময় একটা ঝাড়ির মধ্যে রাখে রিয়াদকে।
.
গার্লস স্কুলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ই পিয়াকে প্রথম দেখতে পায় রিয়াদ। ঐ দিন থেকে শুরু হয় পিছু নেওয়া। কিন্তু কখনই বলতে পারেনি কেনো পিছু নেয় তার। কারণটা রিয়াদ নিজেও জানে না। প্রতিদিনই পিয়াদের বাসা পর্যন্ত আসে। হতে পারে এটা ভালো লাগা আর সেই ভালো লাগা থেকেই জন্মাচ্ছে ভালবাসা।
.
পিয়া দেখতে তেমন সুন্দরী ছিলো না। কিন্তু তার আচরণ, মনোভাব দেখেই বোঝা যায় সে খুব ভদ্র। আর কাকে কখন কিভাবে ভাল লেগে যায় তা কখনো কেউ বলতে পারবে না। ভালবাসার জন্য লাগে সুন্দর একটা কমল হৃদয়। মন দিয়ে শতুরু হয় ভালবাসার সৃষ্টি।
.
১ সপ্তাহ পরঃ
.
রিয়াদ স্কুলের গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো। তখন দেখতে পেলো পিয়াকে। কিন্তু তার পাশে কাউকে দেখতে পায়। যেটা দেখে রিয়াদ খুব কষ্ট পায়। সেইদিন আর তার পিছু পিছু যায়নি রিয়াদ। কিন্তু পিয়া বার বার পিছু ফিরে তাকায় কিন্তু রিয়াদ কে দেখতে পায় না। পিয়াও সেইদিন খুব মিস করছে রিয়াদকে যা তার মনোভাব দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো।
.
দিনের পর দিন যায়, কিন্তু রিয়াদকে আর দেখতে পায় না। পিয়াও খুব ভালবেসে ফেলে রিয়াদকে তার মনের অজান্তে। তাই তো তাকে দেখতে না পেয়ে মনের ভেতরটা কষ্টে ভেঙে পরে। কিন্তু সেটা তো শুধু পিয়াই জানে। যার জন্য এরকমটা হচ্ছে সে তো জানে না।
.
আর রিয়াদ তো কষ্ট পেয়ে নিজে একা একাই কাঁদছে। ভালবাসার মানুষটি সামান্য কোনো ছেলের দিকে তাকালেও খুব কষ্ট লাগে। কারণ ভালবাসা এমনই। দুই জনই দু দিক থেকে কষ্ট পেয়েই যাচ্ছে। শুধু জানে না কষ্টের কারণ গুলো।
.
কয়েকদিন পরঃ
.
পিয়া স্কুলে যাওয়ার পথে রিয়াদকে দেখতে পায়। রিয়াদের হাতে ছিলো সিগারেট। রিয়াদ দেখতে পায়নি তখনো তাকে। সে শুধু সিগারেটের ধোয়া গুলোর সাথে নিজের মনের কষ্ট গুলো উড়িয়ে দিচ্ছে। এক এক জন এক এক ভাবে কষ্ট উড়ায়। কেউ কেউ কষ্ট পেলে সিগারেট হাতে নেয়। আবার কেউ কেউ কষ্ট পেলে হাত কাটা-কাটি করে।
.
কিন্তু এইগুলো করলে কি সত্যি সত্যি কষ্ট গুলো মুছা যায়? সব কষ্ট কি ভুলে থাকা যায়? না যায় না কিন্তু মনকে শান্তনা দেওয়ার জন্যই এইসব করে থাকে। তবে এগুলো বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
.
পিছন থেকে এসে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় পিয়া। রিয়াদ ফিরে তাকিয়ে দেখতে পায় পিয়াকে। চলে যাবে এমন সময় পিয়া রিয়াদের হাতটি ধরে ফেলে।
.
- কোথায় যাচ্ছো তুমি? এতদিন কোথায় ছিলে?
- জানিনা। তুমি এখানে কেনো আসছো? 
- কেনো আসছি মানে? তুমি বুঝোনা এতদিন তোমাকে না দেখতে পেরে কতোটা কষ্ট পেয়েছি।
- কেনো?  তুমি তো ভালই আছো। ঐ দিন তো দেখতে পেলামই।
- কি দেখেছো?
- যার সাথে হেটে হেটে বাসায় গেলে। তাকেই দেখেছি।
- দেখেছো ভাল করেছো। কিন্তু এটা তো জানোনা যে উনি আমার বড় ভাই ছিলো। সেইদিন একটু অসুস্থ ছিলাম আমি তাই ভাইয়া আসছিলো আমাকে স্কুল থেকে নেয়ার জন্য।
- তোমার ভাই ছিলো?  
- হ্যাঁ। আমার ভাইয়া ছিলো। আর তুমি ভেবে নিয়েছো অন্যকিছু। এর কারণেই এতদিন আমাকে দেখা দেওনি। কিভাবে এতটা সার্থপর হতে পারলে।
.
রিয়াদ কি বলবে বুঝতে পারছে না। শুধু হাত থেকে সিগারেটটা মাটিতে ফেলে দিলো। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
.
- আর এইগুলো কি?? হাতে এটা কি দেখলাম?
- আর দেখবে না।
- সত্যি তো?
- হুম তিন সত্যি।
- এখন থেকে সবসময় দেখা দিবে তো?
- হুমম দেবো।
- ভালবাসবে তো?
- হুমম বাসবো।
- মনে থাকে যেনো।
- হুমম।
- আচ্ছা এখন তাহলে যাই। স্কুলে যেতে হবে। আর তুমি অপেক্ষা করবে কিন্তু আমার জন্য।
- হুমম অবশ্যই।
.
পিয়া যাচ্ছে আর রিয়াদ তার পিছু চলা দেখছে। আর ভাবছে সত্যিই কি এর নাম ভালবাসা। আর ভালবাসা মানেই কি কোনো কিছু ভুলা যায়না। এরকম হাজারটা খুনসুটি প্রশ্ন হচ্ছে তার মনে।
.
এভাবেই শুরু হয় তাঁদের ভালবাসা। ভালো থাকুক তারা। ভালো থাকুক সত্যি কারের ভালবাসা গুলো। বেঁচে থাকুক ভালবাসার মানুষ গুলো।


.
.
.
Ridoy Nadim (((AR PagLaaa)))

Comments