- বন্ধু হৃদয় এবং রিয়াদ শুনো তোমরা। আমি তোমাদের মাল এনে দিছি। এখন মালের আগে তো কিছু একটা খাওয়া দরকার। ঐটার ব্যবস্থা কে করবে বলো।
- বন্ধু রুবেল। তুমি তো সব কিছুই মেনেজ করছো এই পার্টির। এখন যদি মোরা (আমরা) এইখানে কিছু খরচ করি তাহলে তো পার্টিটা যে তুমি একা দিছো। ঐ ডা তো মোরা কাউরে কইতে পারমু না।
- বন্ধু তুমি আমার সাথে এভাবে কেনো কথা বলছো। তুমি যে আমাকে মিন করে বলতেছো সেটা আমি বুঝতে পেরেছি।
- ভাই মাফ চাই। তুই আর শুদ্ধ ভাবে কথা বলিস না। তুই তোর মতো করেই কথা বল।
- তোমরা বুঝবা কি? জানো তোমরা আমার বরিশালের কথা কত কিউট।
- হুমম খুব কিউট।
- কতো মেয়েরে পাগল করছি আমি কথা বইলা। যেটাই হোক তোমরা সেটা বুঝবা না। এহন আসল কথায় আসো।
- আসল কথাটা না হয় তুমিই বলে দাও বরিশালের স্মার্ট ছেলে মিঃ রুবেল।
- আচ্ছা যাক গা। আমি এই পার্টির সব কিছু আয়োজন করলাম। আমাগো বরিশালের মানুষের মন অনেক বড়।
- হ। খুব বড়ো।
.
মাঝ খান দিয়ে রিয়াদ ওর কথার উত্তর দিয়ে দেয়। আর রুবেল ও শুরু করে দিলো তর্কাতর্কি। আসলে রিয়াদের কোনো কথা রুবেল সয্য করতে পারে না। আর রুবেলের কোনো কথা রিয়াদ সয্য করতে পারে না। এই দুইটা ছেলে সারাটা দিনই ঝগড়াটে প্রেমিক- প্রেমিকাদের মতো ঝগড়া করতেই থাকে। তবে বন্ধুত্বের ভালবাসাটা এক জনের থেকে আরেক জনের কম নয়। ওদের ঝগড়া দেখে আমি আর হাসি থামাতে পারি না। হঠাৎ কে জানি কলিংবেল চাপলো। কলিংবেলের শব্দে তো সবাই ভয় পেলাম। কে আসলো এই সময়। তখন রাত ৯ টার মতো বাজে। তিন জন'ই সামনে থেকে বোতল গুলা অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেললাম।
.
- রুবেল দেখ তো বন্ধু কে আসছে।
- আমি পারমু না। সিলেইট্টারে যাইতে বল।
- এই বেটা বরিশাইল্লা। সিলেইট্টা কি?
- ভাই থামবি তোরা? যা তোদের কাউকেই যেতে হবে না। আমিই যাচ্ছি।
- তাইলে বইসা আছো কে যাও তাড়া-তাড়ি।
.
দরজা খুলে যা দেখলাম তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না আমি। দরজা মেলতেই দেখি রবিন। মানে আমার খালাত ভাই। শুধু ওরে একা দেখলে অবাক হতাম না। অবাক হয়েছি পাসে আরেকজন কে দেখে।
.
- কেমন আছো হৃদয় ভাইয়া।
- আমি ভালো আছি। তুই হঠাৎ এইখানে?
- ভাইয়া আমি তো একটা ঝামেলা করে ফেলছি।
- কি ঝামেলা করলি? আর তোর সাথে উনি কে?
- ভাইয়া সব কিছু খুলে বলবো। আগে ভেতরে তো যেতে দেও। দেখছো আমার সাথে আমার বউ বাহিরে দাঁড়ায় আছে।
- বউ মানে। আচ্ছা আয় ভেতরে আয়।
.
- কিরে বন্ধু কে আসছেরে?
রুমের ভেতর থেকে রুবেল আসে। ও আবার মেয়ে পাগল ছিলো। সেটা আপনাদের আগেই বলেছিলাম। সেখানেও লুইচ্ছামি শুরু করে দিছে।
.
- আরে আপু নাকি। কেমন আছেন? ভালো আছেন তো।
- জ্বি ভাইয়া ভালো আছি।
.
রুবেল চুপ কর। আমার মাথায় কিন্তু কিছুই ডুকতেছে না রবিন। রবিন ভাই আমার কি হয়েছে এখন আমাকে একটু কষ্ট করে খুলে বল। বাড়িওয়ালা যদি এই মেয়েকে দেখে। তাহলে কি হবে সেটা বুঝতে পারছিস তুই? অনেক কষ্ট করে এই বাসাটা জোগাড় করছি। এখন এই বাসাটাও থাকবে না। তোর কারণে কি আমাকে রাস্তায় থাকতে হবে।
.
পরে রবিন সব কিছু খুলে বললো। আসলে রবিন আমার থেকে দুই বছরের ছোট। কিন্তু এমনিতে খুবই ফ্রি আমার সাথে। সুমার নাকি বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলো। ও হ্যা রবিনের গার্লফ্রেন্ডের নাম সুমা। ওদের রিলেশন ৪ বছরের। কিভাবে যেনো ওদের রিলেশনের কথা সুমাদের বাসায় জানা-জানি হয়ে যায়। জানার পর থেকে সুমার ফ্যামিলি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এর কারণে আজই ওরা বাসা থেকে পালিয়েছে।
.
- পালাইছোত ভালা কথা। আমার কাছে আসলি কেনো?
- ভাইয়া তুমি এইগুলা কি বলছো? আমার কে আছে আর তুমি ছাড়া বলো।
- শোন এইগুলো বইলা আমাকে পটানোর দরকার নাই।
<কিন্তু অলরেডি পটে যাই> আমি একটু দয়ালু ছিলাম। আর মায়াও বেশি ছিলো।
- ভাইয়া এখন আমি কি করবো?
- আমি জানিনা তোরা কি করবি। বিয়ে করেছিস তোরা?
- না ভাইয়া। বিয়ের করার সময়টা পাইনি তো।
- ও খোদা। বাড়িওয়ালা যদি দেখে ফেলে কি বলবো তাদের।
- ভাইয়া কিছু একটা মেনেজ করেন। <এইবার সুমা আমাকে রিকুয়েস্ট করছে >
- আচ্ছা দেখি আমি। ব্যাচেলর বাসা বুঝতেছোই তো। আলাদা কোনো বিছানাও নেই। যে তোমাদের থাকতে দেবো।
.
- বন্ধু হৃদয়। ওরা তো বিপদে পইরাই আমাদের কাছে আসছে। তুমি একটু বাড়িওয়ালা কে মেনেজ করো বন্ধু। তুমি বললে অবশ্যই শুনবে।
- হ। বাড়িওয়ালা তো আমার শ্বশুর লাগে।
- এখন হয় নাই। হয়ে যাবে একদিন।
- চুপ থাক রুবেল।
- রুবেল তো ঠিকই বলছে।
- রিয়াদ তুই ও শুরু করিস না।
.
মাথা পুরাই গরম হয়ে গেছে। এখন কিভাবে কি করবো কিছুই মাথায় ডুকতেছে না। ওদেরকে সোফায় বসিয়ে রেখে আমি বেলকোনিতে আসি। সাথে রুবেল ও রিয়াদ। ওদের সাথে পার্সোনালি কথা বলার জন্য। সিগারেট ধরালাম একটা। সিগারেট খেয়ে মাথা ঠান্ডা করে একটা সমাধান বের করলাম।
.
- রিয়াদ, রুবেল শোন। রবিন আমার খালাতো ভাই। ওরা যখন এখানে বিপদে পরে এসেছে। আমাদের তো তিন জনের তিনটা বেড। এক্সট্রা কোনো বেড ও নেই। তাই বলছি যে আমাদের এইখান থেকে যেকোনো একটা বেড ওদের কে দিতে হবে। যেহেতু ওরা এখনো বিয়ে করেনি। তার মানে রবিন আমাদের সাথে থাকবে। সুমা শুধু পাশের রুমে থাকবে একা। আর আগামীকাল ওদের কাজী ডেকে বিয়ে করিয়ে দেবো। যেহেতু বাসা থেকে পালিয়ে এসেছে দুইজন। তোরা কি বলিস?
- বন্ধু আমার কোনো সমস্যা নাই। আমার তো সমস্যা রুবেলকে নিয়ে। ও স্বভাব তো তুই জানিসই।
- এই বেটা হালার পো হালা। তোর কি সব কিছুর ভিতরেই বাম হাত ডুকাইতে হয়।
- চুপ কর তোরা। রুবেল শোন। মেয়ে দেখলে তোর লুইচ্ছামি শুরু হয়। কিন্তু সুমাকে তোর ছোট বোন এর মতো ভাববি।
- বন্ধু দিলিতো মনটা নষ্ট কইরা। আচ্ছা যা সুমার আমার ছোট বোনই।
- তাহলে তোর যখন ছোট বোন তাহলে তুই পাশের রুমটা গুছিয়ে দে।
- হাহা। হৃদয় ঠিক কথাই বলছে।
- শোনো রিয়াদ। তুমি চুপ কইরা থাকো। আমি তোমার থেকে ভালো বুঝি।
- তাহলে যা তাড়া-তাড়ি কর।
.
রুবেলকে কি বললে ওর মন গলে যায় সেটা আমার ভালো মতই জানা আছে। আসলে বরিশালের মানুষেরা কেমন হয় সেটা জানি না। তবে রুবেলের চাপার মতো মনটাও অনেক বড়। তো ঐ রাতের পার্টিটা আর হয়না। এর পরের দিনের জন্য রেখে দিলাম। যেহেতু পরেরদিন একটা বিবাহ। সেহেতু পার্টিটা ঐ দিনই করা যায়। তো ঐ দিন রাতে সবাই আড্ডা মারলাম কিছুক্ষণ। হোটেল থেকে কিছু কিনে আনলাম। বাসায় গেস্ট আসছে তাই। এক সাথে ডিনার করলাম সবাই।
.
- রবিন।
- হ্যা ভাইয়া।
- খালা- খালুকে ব্যাপারটা জানানো দরকার না?
- ভাইয়া। এখন কিছু জানাইয়ো না। আগে বিয়েটা হয়ে যাক পরে তুমি জানিয়ে দিও।
- আচ্ছা ঠিক আছে। টাকা-পয়সা কিছু এনেছিস?
- ভাইয়া বাসা থেকে ২০ হাজার টাকা এনেছি।
- এত টাকা কই পাইলি তুই? চুরি করে এনেছিস?
- চুরি কেনো করবো। বাসা থেকে টাকা নেয়া কে চুরি বলে?
- বেশি পাকামি করিস না। আল্লাহ্ খালা যদি জানে যে তোকে আমি আমার বাসায় রেখেছি। কি ভাববে ছিহ।
- ভাইয়া তুমি ছাড়া আমার কে আছে বলো।
- চুপ-চাপ ঘুমিয়ে পড়। কাল সকালে উঠতে হবে।
- ঠিক আছে ভাইয়া।
.
সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু আমি আর ঘুমাতে পারলাম না। ঘুমাবোই বা কিভাবে এরকম প্যারা মাথায় নিয়ে ঘুমানো যায় নাকি। আমার চিন্তা হচ্ছিলো খালা-খালুর কথা। কেউ কখনো ভাবেওনি যে রবিন এরকম একটা কাজ করবে। তারা ভাববে কি আমি নিজেই তো কখনো ভাবিনি। এইগুলো চিন্তা করতে করতে ভোর ৫ টা বেজে গেছে। এখন একটু না ঘুমালে শরীর খারাপ করবে। তাই ঘুমিয়ে গেলাম।
.
(চলবে)
.
.
লেখাঃ হৃদয় নাদিম

Comments
Post a Comment