- ভাইয়া। আপনি কি রেগে আছেন আমার উপর?
- কেনো? রাগ করবো কেনো?
- এই যে কারো মতামত না নিয়ে নীলা ভাবিকে আমাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার কথা বললাম তাই।
- নীলা ভাবি? কার বউ?
- হয়নি এখনো। কিন্তু হতে কতক্ষণ? আর আমাকে আপনার ছোট ভাই বলেছে সব কিছুই।
- ও আচ্ছা। রবিন কোথায়?
- তাকে কিছু বইলেন ভাইয়া প্লীজ।
- না কিছু বলবো না। ওর সাথে কথা আছে আমার।
- ও। আচ্ছা আমি ওকে ডেকে পাঠাচ্ছি।
- হুমম ঠিক আছে যাও।
.
আমি, রিয়াদ, রুবেল আমাদের রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। একটু পরে রবিন আসে আমাদের রুমে। এত দূরে যাচ্ছি। একটু প্লানিং এর দরকার আছে। তাই সবাই একসাথে কথা বলে নেয়া ভালো হবে। তাই সবাইকে ডাকা। একটু পর রবিন আসে আমাদের রুমে।
.
- ভাইয়া ডাকছো আমাকে?
- হ্যা। বস এখানে।
- ভাইয়া আমি কিন্তু সুমাকে কিছু বলিনি।
- আহা। রাখ তো এ কথা। আমি জানি সেটা।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
- আচ্ছা যে কারণে সবাইকে ডাকলাম। আগে আমাদের এ বাসাটা ছিলো একটা ব্যাচেলর বাসা। কিন্তু এখন সেটা একটা পরিবার হয়েছে। তাই আমি আর রিয়াদ সকালে কথা বলছিলাম এই নিয়ে যে আমাদের বাসায় এখন টুকিটাকি কিছু জিনিষপত্র আনা দরকার। আর আমরা যখন সবাই একসাথেই থাকি। তাই সবারই মতামত দরকার। তোরা কি বলিস?
- হ্যা সেটা আমিও ভাবছিলাম ভাইয়া।
- রুবেল তুই কি বলিস?
- তোরা আমার মতামতের জন্য অপেক্ষা করছিস? শালা তোরা এখনো আমাকে পর ভাবছিস?
- ঠিক সেটা না রুবেল। সবারই তো একটা মতামত থাকেই।
- তারপরও তোদের আমি নিজের কলিজাটার চাইতেও বেশি বিশ্বাস করি এবং ভালবাসি। আর তোরা যাই করিস না কেনো সেটা আমাদের ভালোর জন্য। তাই এখন থেকে কিছু করলে আমার মতামত জানার জন্য অপেক্ষা করবি না দয়া করে।
- আচ্ছা ভাই ভুল হয়ে গেছে। মাফ চাই।
- বন্ধু আয় বুকে আয়। তুই এত ভাল কেন রে? <রিয়াদ বলে কথাটি>
- হইছে আর পাম মারতে হইবো না।
- এই শালা। তুই গোসল করিস না কতদিন ধরে? এত গন্ধ কেনো?
- তুই বেটা তোর নিজের শরীরের গন্ধ কেমন সেটা দেখছোত। যা শালা তুই আসলেই একটা খাচ্চর।
.
আবার শুরু করেছে ওরা ঝগড়া। আসলেই ওরা দুইজন শুধু লেগেই থাকে। ওদের কাহিনী দেখে আমি আর রবিন হাসতে থাকি। এতে ওরা আরো বেশি রেগে যায়। কিন্তু সব শেষে সবাই অনেক ভালো। ওরা যেমন ঝগড়া করে বেশি। তেমন ওদের প্রতি টান ও বেশি। যখন রুবেল জবে থাকে। তখন রিয়াদ তো সবসময়ই বলে যে রুবেলকে অনেক মিস করছি রে। ওরে ছাড়া আসলে আড্ডাই জমে না। আবার রুবেল মাঝে মাঝে এ কথা বলে যখন রিয়াদ বাসায় না থাকে।
.
- আচ্ছা এখন থাম তোরা। প্লানিং করতে হবে এখন তোরা বল প্রথমে কি আনা দরকার বাসায়?
- নীলা ভাবিকে নিয়ে আয় আগে।
- দেখ রুবেল। এখন মজা করার সময় না।
- আরে বন্ধু তুই এত রাগিস কেনো? রবিন তোমার এই ভাইয়ের কি রাগ ছাড়া আর কিছু নেই।
- আচ্ছা এখন বাদ দে। যে টপিক নিয়ে কথা বলছি আগে ঐটা শেষ হউক পরে না হয় অন্য টপিক নিয়ে কথা হবে।
- যা ভাল মনে করিস।
- হুমম আমাদের সর্বপ্রথম বাসায় একটা ফ্রিজ আনতে হবে। কারণ ফ্রিজ থাকাটা অনেক জরুরী। এইতো আজ সকালেই অনেক তরকারী, মাছ, মাংস বাড়িওয়ালাদের ফ্রিজে রেখে আসলাম। কিন্তু সেটা তো সবসময় করা যাবেনা।
- হ্যা ঠিক বলছিস। ফ্রিজটা আসলেই দরকার অনেক। পরে আর কি দরকার বল।
- রবিনদের রুমের জন্য একটা খাট লাগবে। আমাদের রুমের খাটের দরকার নেই। কারণ নিচে বেডে থাকাটাই আমার কাছে ভালো মনে হয়।
- হ্যা আমাদের রুমে খাটের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বন্ধু আমার একটা কথা আছে।
- হ্যা বল রুবেল।
- একটা এসি থাকলে মন্দ হতো না।
- শালা এসি এসি করে। তোগো লঞ্চের মধ্যে এসি থাকে রে?
- এই বেটা রিয়াদ তুই সবসময় আমার সাথে এমন করিস। এসি আনলে কি আমি একা থাকবো? তুই তো কুত্তার মতো বেইজ্জা থাকবি এই রুমেই।
- আচ্ছা হইছে এবার বাদ দে তোরা। এসির সাব্জেক্ট এখন বাদ দে। এটা পরে ভাবা যাবে। যেহেতু আমাদের রুমে একটা সোফা আছে। তাই মাঝের ফ্লোরের জন্য তিন সিটের একটা সোফা আনা দরকার। যাতে বাহিরের কোনো মানুষ এসে বসতে দিতে পারি। আর ডাইনিং টেবিল লাগবে। আমার মতে এইগুলো বেশি জরুরি। এখন তোরা বল।
- না ঠিকই আছে।
- আমার কাছেও এটা ভাল লাগছে। কিন্তু বন্ধু এসির কথাটা একটু ভাবিস।
- আবারো এসি। আচ্ছা যা তোদের ভাবি আসলে এটা আনবো? হ্যাপি?
- নীলা ভাবিকে তাহলে এখনই নিয়ে এসে পরি। কি বলিস তোরা?
- আচ্ছা বাদ দে রুবেল। রবিন কি বলিস?
- তোমারা যেটা ভাল মনে করো ভাইয়া।
- আচ্ছা আপাতত এইগুলো আনি। এক সাথে তো সব কিছু আনা যাবে না। তাই অল্প অল্প করেই বাসাটা সাজাই।
- হুম ঠিক আছে।
- আমরা যেহেতু এখানে চার জন। তাই যদি প্রত্যেকে ১০ হাজার করে টাকা দেই তাহলে ৪০ হাজার টাকা হবে। আর এই ৪০ হাজার টাকার মধ্যেই এইগুলো আনা লাগবে। আর যদি এখান থেকে কিছু ফিরে তাহলে সেটা জমা রেখে দিতে পারবো।
- হুম ঠিক আছে কোনো সমস্যা নেই। তো এইগুলো কি বরিশাল থেকে আসার পর আনবো নাকি আগে?
- বরিশাল যাবো পরশুদিন। তোরা চাইলে আগামীকালই আনা যায়।
- হুমম ঠিক আছে। তাহলে আগামীকালই নিয়ে আসি।
- হুমম ঠিক আছে। তাহলে এখন ডিনার করে ফেলি।
- হ্যা বন্ধু চলো।
- রুবেলের সমস্যা ঠিক হইছে? স্যালাইন আছে নাকি নিয়ে আসবো?
- স্যালাইন তো শেষ।
- আচ্ছা তাহলে আমি বাহিরে যাচ্ছি। তোর জন্য স্যালাইন আর এক প্যাকেট অক্সিজেন নিয়ে আসি। আর তোরা এইদিকে ডিনারের ব্যবস্থা কর।
- আচ্ছা বন্ধু যা তাইলে।
.
আমি বাসার বাহিরে গেলাম। তখনই বাসায় কল দিয়ে জানিয়ে দিলাম মা কে বরিশাল যাওয়ার কথাটা। মা কে বলেদিলাম ৫ হাজার টাকা পাঠাতে। মা বলেছে কাল টাকা পাঠিয়ে দিবে। যাক ভালোই হয়েছে। আবার যেহেতু নীলা সাথে যাবে। তাকে তো একটু ভালো মতো রাখতে হবে। আর সে দায়িত্বটা শুধু মাত্র আমারই থাকবে। কারণ সে আমার না কিছুনা। দোকানের সামনে এসে পরলাম। পরে দোকান থেকে এক বক্স স্যালাইন নিলাম। এবং এক প্যাকেট বেনসন কিনে নিলাম। দোকানদার আমার সাথে ভালই পরিচিত হয়ে যায়। তাই মাঝে মাঝে তার দোকান থেকে বাকি নিয়ে যেতাম।
.
- হৃদয় ভাই আপনাদের দিনে কয় প্যাকেট সিগারেট লাগে? রিয়াদ না দুপুর বেলায় এক প্যাকেট নিয়ে গেলো।
- আর বইলেন না ভাই। এখন একটু বেশিই লাগে।
- সমস্যা নাই। যা লাগবে নিয়ে যাবেন আমার দোকান থেকে।
- হুম ভাই আপনার দোকান থেকেই তো সব নেই।
- সেটা তো আমিই জানি ভাই।
- আচ্ছা ভাই টাকাটা রাখেন তাহলে।
- হুমম ভাই।
- তাহলে আসি। খুদা লাগছে বাসায় গিয়ে খেতে হবে।
- ঠিক আছে ভাই আল্লাহ্ হাফেজ।
.
বাসায় আসছিলাম। সবকিছুই জেনো কত সহজে হয়ে যাচ্ছে। ভালোই লাগছে সেইসব ভেবে। কিন্তু আমার একটা কথা মাথায় আসছে না। নীলা কিভাবে আমার মতো একটা ছেলেকে পছন্দ করলো। আগে বড়দের কাছে শুনতাম যে সুন্দরী মেয়েরা কালো ছেলেদের পছন্দ করে। এখন সেটা ঠিকই মনে হচ্ছিলো। কথাটি ভাবছিলাম আর একা একাই হাসছিলাম।
.
বাসায় গেলাম। গিয়ে দেখলাম সবাই বসে আছে আমার জন্য। একসাথে ডিনার করলাম। সবাই মিলে আড্ডা দিলাম কিছুক্ষণ। পরে ঘুমাতে গেলাম। আমি অচেনা নম্বরটা কেনো জানি তখন সেইভ করলাম মোবাইলে। ডাটা অন ছিলো তাই সাথে সাথে হোয়াটস এপ থেকে একটা কন্টাক্ট নম্বর নোটিফিকেশন এসে পড়ে। তারপর আইডি টা চেক করে দেখলাম। আর স আইডিটা ছিলো নীলার। একটা ছবি দেয়া ছিলো একাউন্টে। ছবিটা সাথে সাথে স্ক্রিনশট নিয়ে রাখলাম।
.
(চলবে)
.
.
লেখাঃ হৃদয় নাদিম

Comments
Post a Comment