.
তখন পর্যন্ত রিয়াদ জানে যে কোথায় যাচ্ছি। যখন বসুন্ধরার সামনে গিয়ে সি এন জি থেকে নামলাম। তখন বুঝতে পেরেছে যে বসুন্ধরায় যাবো। কিন্তু কেনো সেটা জানেনা। চা - সিগারেট খেয়ে নিলাম। তারপর ঢুকলাম শপিংমল এর ভেতরে। শাড়ির দোকানে গেলাম। তখন রিয়াদ আমাকে একটা কথা বলে।
.
- কিরে শাড়ির দোকানে কেনো?
- শাড়ি কিনবো তাই।
- তুই কি এখন থেকে শাড়ি পড়া শুরু করবি নাকি?
- হুম। তুই ও পড়িস আমার সাথে।
কথাটি বলে দুজনই হেসে দিলাম।
- রিয়াদ। আমার পছন্দ কিরকম সেটা তো জানিসই। তাই শাড়িটা তুই পছন্দ করে দে।
- সেটা না হয় দিলাম। কিন্তু কার জন্য সেটা তো বল।
- আছে একজন।
- নীলা ভাবির জন্য??
- হ্যা তার জন্যই।
- তাইলে ভাই তোমার বউয়েরটা তুমিই পছন্দ করো। আমি পারবো না।
- আচ্ছা যা আমিই আমার বউ না মানে আমি পছন্দ করছি।
- বউ বলে আটকে গেলি যে?
- কিছু না।
.
পরে নীলার জন্য একটা নীল রংয়ের শাড়িই কিনলাম। ডল কে পড়িয়ে রাখছিলো। আর সে শাড়িটা দেখেই ভালো লাগে। মনে হচ্ছিলো ডলের জায়গায় নীলা দাঁড়িয়ে আছে। তাই ঐ শাড়িটাই নিয়ে নিলাম। যাইহোক পছন্দ হলে পড়বে না হলে পড়বে না।
.
- বন্ধু?
- কি বল।
- নীলার পছন্দ হবে এটা?
- আমি কিভাবে জানবো? নীলাকেই জিজ্ঞাসা করে দেখ।
- পাগল তুই? এখন তাকে কোথায় পাবো?
- সামনে তাকা। তাহলেই দেখতে পারবি।
- কি যে বলছিস তুই।
.
সামনে তাকিয়ে দেখতেই দেখি নীলা আর আব্রিতা আসছে। আমি তো অবাক। তারা এখানে কখন আসলো? আদ্রিতা থাকলে কথা বলা যেতো। কিন্তু আব্রিতার সাথে তো তেমন কথা হয় না। কি করা যায়। আর নীলাও আমাকে দেখতে পেয়েছে। কিন্তু ও আমার সামনেই আসছিলো।
.
- রিয়াদ ভাইয়া। আপনারা এখানে?
- হুম ভা। বলে থেমে গেলো রিয়াদ। এইতো একটু শপিং এ আসলাম।
- আপনাদের শপিং করা শেষ?
- হ্যা। শেষ এখন বের হবো।
- ভাইয়া আমার ফ্রেন্ডের জন্য কিছু কেনা কাটা বাকি আছে। আর আব্রিতারও কিছু কেনা কাটা বাকি আছে। যদি কিছু মনে না করতেন। তাহলে আমাদের একটু হেল্প করতে পারেন।
- হ্যা সমস্যা নেই। চলেন
.
আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। আমার সাথে কথা না বলে রিয়াদের সাথে কথা বললো। আমি চুপ-চাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। রিয়াদ আমাকে হাত ধরে টেনে নিতে চায়। কিন্তু আমি একটু সামনে গিয়ে থেমে যাই। মন খারাপ করে বাহিরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। একটু পর নীলা আসলো।
.
- মুড অফ?
- উঁহুম মাথা নাড়িয়ে।
- তাহলে?
- না কিছু না।
- এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?
- আমি গিয়ে কি করবো? আমাকে কি কারো প্রয়োজন নাকি?
- এই যে অবুঝের মতো করবেন না। দেখছেন যে আব্রিতা সাথে আসছে। আর আমি আপনার সাথে নরমালি ভাবে কথা বলতে পারি না। আর আব্রিতার সামনে যদি আমি আপনার সাথে কথা বলতাম তাহলে ও ঠিকই সব বুঝে যেতো। পরে আম্মুকে গিয়ে সব বলে দিতো। সেটা কি ভালো দেখাতো?
- উঁহুম।
- আসেন তো এখন।
.
হাতে ধরে টেনে নিয়ে গেলো ভেতরে। আমিও গেলাম। আব্রিতার সাথে রিয়াদ আছে। ওরা আব্রিতার ড্রেস পছন্দ করছে। আর অন্যদিকে নীলা আমার সাথে ঘুরতেছে। আমাকে নিয়ে গেলো অন্য দোকানে। আমার হাতে তো শপিংটা জুলছেই। কিন্তু তখনও তাকে বলিনি যে এটা তার জন্য।
.
- আচ্ছা এ টি শার্ট টা কেমন?
- হুমম ভালো। কেনো তুমি কি টি শার্ট পড়ো?
- হ্যা পড়ি তো। বাসায় পড়ি শুধু।
- ও। হ্যা সুন্দর আছে নিতে পারো।
- ওকে। আচ্ছা এ পাঞ্জাবিটা কেমন? আমার না নীল রংটা খুবই পছন্দের।
- আসলেই? < আমি তো মনে মনে খুব খুশি। তাহলে তার শাড়িটা পছন্দ হবে>
- হ্যা। আচ্ছা সামনে ঘুরেন তো।
- কেনো?
- আহা ঘুরেন না।
- ওকে ঘুরলাম।
- ঠিক আছে।
.
- এক্সকিউজ মি!!
- জ্বি মেম।
- ও দুইটা প্যাক করে দিন
- জ্বি মেম।
.
পরে দোকান থেকে বের হয়ে ওদের কাছে গেলাম। আব্রিতার ও কেনা কাটা শেষ। একসাথে বের হলাম মার্কেট থেকে। তখনও শাড়িটা তাকে দেওয়া হয়নি। পরে দিবো তাই ভেবে। সি এন জি তে উঠলাম। আমি আর রিয়াদ সামনে বসলাম। নীলা ও আব্রিতা পিছনে বসলো। আমার কেনো জানি তখনও মুড অফ ছিলো। কিন্তু কেনো সেটা বুঝতে পারছিলাম না। ঘন্টা খানিক পর বাসার গেইটের সামনে এসে পৌঁছাই। সি এন জি ওয়ালাকে বিদায় করে দিলাম। তারপর ওরা ওদের বাসায় গেলো। আমি আর রিয়াদ গেলাম। একটু দোকানে। সেখানে গিয়ে একসাথে ৪ টা সিগারেট খেলাম। রিয়াদ তো আমার দিকে তাকিয়েই আছে। ও একটা শেষ করতে করতে আমি ৪ টা শেষ করে ফেললাম। রিয়াদ হয়তো কিছুটা বুঝতে পেরেছিলো।
.
- কিরে হৃদয় বন্ধু। কইই হইছে তোর?
- কিছুনা দোস্ত।
- আমাকে বল কি হয়েছে?
- বললাম তো কিছু হয়নি।
.
বলেই দোকানদার কে বললাম আর একটা সিগারেট দিতে। কিন্তু রিয়াদ মানা করে। পরে রিক্সায় উঠে বাসার দিকে ফিরলাম। রিক্সায় রিয়াদ আমাকে বুঝালো অনেক কিছুই।
.
- দোস্ত। পাগলামি করছিস কেনো? আব্রিতা সাথে ছিলো দেখে। মনে হয় তোর সাথে কথা বলেনি। আর ভাবি তো বললো তোকে সব কিছু খুলে।
- আচ্ছা বাদ দে দোস্ত। মাথা ঠিক হইছে এখন।
- শালা কেমনে পারিস এত সিগারেট খেতে?
- আমার একটা শেষ হতে না হতে চারটা শেষ করে ফেললি?
- হাহাহা।
- দোস্ত তুই যে ভাবিকে অনেক ভালবাসিস সেটা তুই প্রমাণ দিলি। খুব তো মুখে বলতিস, খুব ভাব নিতিস। কিন্তু এখন কি হলো?
- জানিনা। কিন্তু আমার খুব খারাপ লাগছিলো তখন দোস্ত।
- এটা কিছু না। কিরে শাড়িটা দিলি না?
- ভুলে গেছিরে দোস্ত। তুই গিয়ে একটু দিয়ে আয় না।
- তোর মাথা পুরাই গেছে শালা। রেখে দে আগামীকাল তো তোর সাথেই থাকবে। তখন দিয়ে দিস।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
.
আমাদের রুমে চলে এলাম। সেইদিন সবাই অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম। রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। নাস্তা করলাম একসাথে সবাই। বিকেলে বের হলাম সবাই বরিশাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে। নীলাও বের হলো। ওর ট্রাভেল ব্যাগটি নিয়ে নিচে নেমে যাই আগে আগে। পরে শুনেছি ওরা আংকেল আন্টির থেকে বিদায় নেয়। আমাকে খুঁজে ছিলো। কিন্তু আমি তো নিচেই চলে আসি।
.
পরে তারা সবাই নিচে আসে। রিক্সা নিলাম বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত যেতে হবে। সুমা এবং নীলা এক রিক্সায় উঠলো। আমি আর রবিন এক রিক্সায় আর রিয়াদ আর রুবেল অন্য রিক্সায় উঠলো। একটু সামনে গিয়ে সুমারা যে রিক্সায় ছিলো ঐ রিক্সাটা ব্রেক করে। কিন্তু ব্রেক করলো কেনো? একটু পর দেখি সুমা নেমে আসছে আমাদের রিক্সার কাছে।
.
- কি সমস্যা? সুমা?
- না ভাইয়া। আমি আসলে রবিনের সাথে যেতে চাই। আপনি ঐ রিক্সায় করে যান না।
- মানে কি?
.
আমি সিউর ছিলাম যে এটাও ওদের একটা প্লানিং ছিলো। যেহেতু গতকাল রাতে কারো সাথে আমি বেশি কথা বলিনি তাতেই মনে হয় বুঝে গেছে। আর এর কারণে নীলাও একটু কষ্ট পেয়েছে মনে হয়। কিন্তু আমি কি করবো আমি ঐ বিষয়টা মেনে নিতে পারিনি। আমার খুব খারাপ লেগেছিলো। পরে গিয়ে বসলাম ঐ রিক্সায়। আর পিছন থেকে রিয়াদ আর রুবেল বলতেছে বেস্ট অফ লাক বন্ধু। আমি ওদের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে দিলাম। পরে গিয়ে নীলার পাশে বসলাম।
.
নীলা অন্যদিকে তাকিয়ে আছে আমিও অন্যদিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু বুঝতেছি না দোষটা কি তাহলে আমারই নাকি। কিছুক্ষণ পর রিক্সা থেকে নেমে গেলাম। আমার ব্যাগ ও নীলার ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে বাসের জন্য ওয়েট করছি। সেও আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। একটু পরে বাস আসে সবাই বাসে উঠি। যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত যেতে হবে বাস দিয়ে। কিন্তু রাস্তার যে জ্যাম। মিরপুরের রাস্তা তো সবসময়ই জ্যাম থাকে। অবশেষে গিয়ে পৌঁছলাম যাত্রাবাড়ী। সেইখান থেকে গাড়ি করে গেলাম সদরঘাট। তখন সন্ধ্যা ৭ টা বাজে।
.
সবাইকে এক সাথে রেখে। আমি, রিয়াদ আর রুবেল গেলাম লঞ্চ খুঁজতে। এডবেঞ্চার-৯ পেলাম। ভেতরে গিয়ে দেখে আসলাম। না খুব ভালো লাগলো। পরে ওদের কে নিয়ে আসলাম। ক্যাবিন দুইটা নিলাম। ক্যাবিনে ব্যাগ গুলো রাখলাম। এবং পরে জানতে পারলাম রাত ৯ টায় লঞ্চ ছাড়বে। আরো দুই ঘন্টা সময় আছে। তো কি আর করার। কিছু খাবার নিয়ে আসলাম বাহিরে থেকে। খাবার গুলো রেখে সবাই একটু ঘুরে দেখছিলাম লঞ্চটা। আমাদের সবারই ফাস্ট টাইম লঞ্চে। শুধু রুবেলের অনেক অভিজ্ঞতা আছে।
.
সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সবাই কথা বলতে ছিলো। কিন্তু নীলা চুপ-চাপ। তাই তার হাত টেনে একটু দূরে গেলাম। সেও আসলো আমার সাথে সাথে। কিন্তু আমি আর নীলা যে আসলাম। সেটা ওরা দেখতে পায়নি।
.
- এই যে মেডাম। কি হয়েছে আপনার?
- আমার কিছুই হয়নি।
- তাহলে এরকম করে রেখেছো কেনো মুখটা?
- কি রকম করে রেখেছি?
- ঘোমড়া মুখে একদম বেমানান লাগে তোমাকে। তাই একটু হাসি খুশি থেকো। এভাবে থাকলে মানুষ ভাববে তোমাকে আমরা কিডনাপ করে নিয়ে যাচ্ছি।
- যান তো। আজে বাজে কথা বলছেন কেনো। <হেসে দেয়>
- আচ্ছা ভয় লাগছে না তো?
- হ্যা কিছুটা।
- ভয় কিসের? আমি আছি তো।
- তাই?
- হুমম। এভাবে তাকাবে না তো লজ্জা লাগে।
- হাহা। তাহলে কিভাবে তাকাবো?
- জানিনা। আসো ওদের কাছে যাই।
.
ওদের দিকে গেলাম। রিয়াদ আর রুবেল তো ছটফট করছে সিগারেট খাওয়ার জন্য। সেটা ওদের দেখলেই বুঝা যায়। তাই সবাই মিলে ক্যাবিনে গেলাম। সুমা ও নীলার জন্য একটা ক্যাবিন। আর আমাদের চার জনের জন্য একটা। ওরা যদি ঘুমাতে পারে ঘুমাবে। আমরা তো আর ঘুমাবো না। চিল করবো। ওদের ক্যাবিনে দিয়ে আসলাম এবং কিছু খাবার কিনে নিয়ে গেলো রিয়াদ। রিয়াদের কথা হলো। কিভাবে ওদের কাছে থেকে একটু রেহাই পাওয়া যাবে। আমরাও ছাদে এসে পরি।
.
শুরু হলো সিগারেট খাওয়া। এ জিনিষটা বউ বা গফ থাকলে ভাল মত ইনজয় করা যায়না। সিগারেট খেয়ে রিয়াদ ও রুবেলের মুখে হাসি ফুটলো। আমারাও যে খুশি হইনি তাও কিন্তু নয়। যাক রাতের আবহাওয়া টা সেই ছিলো। ভালই লাগছিলো।
.
(চলবে)
.
.
লেখাঃ হৃদয় নাদিম

Comments
Post a Comment