"ব্যাচেলর" (১৬ তম পর্ব)



বাসার সামনে আরো কিছুক্ষণ ঘুরলাম। সন্ধ্যা হয়ে যায় পরে বাসায় এসে পরি। সবাই এক রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আমাদের জন্য আন্টি নাস্তা নিয়ে আসে। নাস্তা খেতে শুরু করলাম। টয়া কানে কানে কি জানি নীলাকে বলে। নীলা সেটা শুনে হাসে। কিন্তু বলে সেটা আমিও শুনি নাই।
পরে নীলা তার হাতে আমাকে মিষ্টি খাইয়ে দেয়। আর সেটা দেখে সবাই কত কমেন্টস করা শুরু করে দিলো।
.
- আমি খাইয়ে দেই?
- ইচ্ছে আপনার।
- তোমার ইচ্ছে নেই আমার হাতে খাওয়ার?
- হ্যা আছে।
- সবাই তো তাকিয়ে আছে। কিভাবে খাওয়াই?
- থাকুক তাহলে। হুহ।
.
পরে সবার সামনেই খাইয়ে দিলাম। এত লজ্জা পেলে হবে না। ভাল যখন বেসেছিই লজ্জা পাবো কেনো। তো পরে সবাই খেলাম। সোফায় বসে বসে বিকেলের ছবি গুলো দেখতে ছিলাম নীলার সাথে। তখন একটু একটু ফ্রি হয়ে যাই নীলার সাথে। আর সবার সামনেই কথাও বলতাম তার সাথে।
.
- পরীর সাথে এই ছেলেটাকে মানাচ্ছে না। কি বলো তুমি?
- জানিনা।
- ছেলেটা আর একটু স্মার্ট হলে ভালো মানাতো পরীটার সাথে।
- চুপ করেন। বেশি কথা বলেন আপনি।
- আচ্ছা এখন থেকে কম কথা বলবো।
- না থাক। আপনি আবার কথা না বলে থাকলে সবাই কি মনে করবে। কথা বলেন সমস্যা নেই। কিন্তু আমার পছন্দ নিয়ে কথা বলবেন না। আমার পছন্দ অনেক ভাল।
- হুহ। তোমার পছন্দ সুন্দর। শুধু একটা জিনিষ ভুল পছন্দ করেছো।
- একদম চুপ।
.
কথাটি বলে উঠে চলে যেতে যাবে। তখনই হাতটি ধরে ফেলি। পরে আর যেতে পারেনি সে। আমার পাশেই বসে ছিলো। কিছুক্ষণ পর টয়ার মা (আন্টি) আসলো।
.
- আন্টি বসুন।
- হ্যা বাবা। তো তোমার পড়া লেখা কেমন চলছে?
- জ্বি আন্টি। আলহামদুলিল্লাহ্‌।
- অনেকদিন হলো তোমার মা- বাবা'র সাথে দেখা হয় না। তারা থাকলে আরো ভালো লাগতো।
- জ্বি আন্টি। তারাও আপনাদের কথা প্রায়ই সময় বলে।
- ও আচ্ছা। প্রিয়া কেমন আছে? ওর বাবু কেমন আছে?
- হ্যা আন্টি ভালো আছে আপু।
- ওর ছেলে বাবু হয়েছে না?
- হ্যা আন্টি।
- কি নাম রেখেছে?
- আয়ান।
- বাহ। খুব সুন্দর নাম। দেখতেও পারলাম না প্রিয়ার ছেলেটাকে। প্রিয়াকেও তো নিয়ে আসতে পারতে।
- আচ্ছা একদিন আসবে। আপনারাও তো যাননা। কতদিন হয়ে গেলো বরিশাল আসছেন। আমাদের তো ভুলেই গেছেন।
- কি যে বলো বাবা। তোমাদের কি ভুলতে পারি। সবসময়ই তো তোমার আংকেলের সাথে তোমাদের ব্যাপারে কথা বলি।
.
আন্টির সাথে কথা বলতে বলতে আপু কল দেয়। আপুর কল পিক করলাম।
.
- হ্যালো আপু।
- কিরে কেমন আছিস?
- এইতো ভাল। ভিডিও কল দিচ্ছি। আন্টির সাথে কথা বল।
- হুমম ঠিক আছে।
.
পরে ভিডিও কল দিলাম আপুকে। আন্টির সাথে কথা বলছে। আমরাও আমাদের মতো আড্ডা দিচ্ছিলাম। আর রুবেল তো দিয়াকে পটাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে রুবেলের কাহিনী দেখতাম। আর নীলাও আমাকে ইশারা দিয়ে ওদের কাহিনী দেখানোর জন্য বলতো।
.
- আচ্ছা আয়ান কি আমার সাথে কথা বলবে?
- কেনো বলবে না। একটা মাত্র মামী।
- ইশশশ। বিয়ে না করেই মামী বানিয়ে ফেললো।
- বিয়ে তো একদিন না একদিন করবোই।
- দেখা যাবে।
- আচ্ছা এখন কথা বলবে আয়ানের সাথে?
- আপুকে কি বলবো? সে কি আমাকে চিনে নাকি?
- সেটা না হয়। আপুর থেকেই জেনে নিয়ো।
- না। আমার ভয় করে।
- আহা ভয়ের কিছু নেই। দাড়াও আন্টির কথা বলা শেষ হলে পরে কথা বইলো।
- ঠিক আছে।
.
আন্টি প্রায়ই আধা ঘন্টার মতো কথা বলে আপুর সাথে। অনেকদিন পর কথা বলছিলো তো তাই। পরে তার কথা বলা শেষ হয়। আমাকে মোবাইলটা দিয়ে আন্টি রুম থেকে বের হয়ে যায়।
.
- আপু। শোন।
- হ্যা হৃদয় বল।
- আয়ানের সাথে একজন কথা বলবে।
- হুমম বলুক।
.
পরে নীলাকে দিলাম। নীলা তো ভয় পাচ্ছিলো কথা বলতে। কিন্তু আপু যখন ওর নাম জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে যে সেই নীলা। তখন তো আমার কথাও ভুলে গেছে। নীলাকে কখনো দেখিনি আপু। শুধু নামে চিনতো। পরে ভাগিনার সাথে কথা বলে। আয়ানের দুষ্টামি দেখে তো নীলাও মজা পায়। নীলা কথা বলা শেষ করে।
.
- নীলা তোকে পছন্দ করলো কিভাবে রে?
- আপু তুই ও এভাবে বলছিস? আমি কি দেখতে এতোই বাজে?
- আমি কি বলেছি আমার ভাইটা দেখতে বাজে।
- হুহ। এখন বল তোর ছেলের মামী দেখতে কেমন?
- ইশ। এত তাড়া-তাড়ি সব কিছু মিলিয়েও ফেলেছিস?
- বল না।
- হ্যা। আমার কাছে অনেক ভাল লেগেছে নীলাকে। তবে আমি একটা জিনিষ বুঝছি না কোনো ভাবেই।
- যা আর কথাই বলবো না।
- শোন শোন।
- হুম বল।
- সাবধানে থাকিস। আর নীলাকেও সাবধানে রাখিস।
- জ্বি। এটা আপনার বলতে হবে না।
- শুধু নীলাকে নিয়ে পরে থাকিস না। তোর সাথে কিন্তু তোর ছোট ভাইয়ের বউ ও গেছে। ওদের ও খবর রাখিস।
- আহা। আমি সবার খবরই রাখি।
- তাহলে ঠিক আছে। আর সাবধানে থাকিস কিন্তু।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
- আল্লাহ্‌ হাফেজ।
- হুমম। আল্লাহ্‌ হাফেজ।
.
আপুর সাথে কথা বলা শেষ করে ফোন রাখলাম। অনেকক্ষণ ধরে রিয়াদকে দেখতে পাচ্ছি না। রুবেল আর রবিনকে ডেকে একটু বাহিরে গেলাম। আমার কেনো জানি মনে হচ্ছিলো রিয়াদকে চায়ের দোকানে পাবো। হ্যা তাই হলো। দুই হাতে দুইটা সিগারেট নিয়ে একসাথে খাচ্ছে। আমাদের দেখে সিগারেটের প্যাকেটটা আমাদের দিকে দেয়।
.
- তুই এখানে একা বসে আছিস?
- কি করবো। তোরা তোদের বউদের নিয়ে ব্যস্ত। পরে আমি ওর সাথে কথা বলতে বলতে বাহিরে চলে আসি।
- ও টা কে ভাইয়া? <রবিন বলে>
- আরে ওটা কে জানিস না? ওটা হচ্ছে তোর হবু ভাবি।
- ওহ আচ্ছা। এখন জানলাম।
- এখন তাড়া-তাড়ি বিড়ি ধরা। বন্ধু এমন জায়গায় আসলাম অক্সিজেন নিতে বাহিরে আসা লাগে।
- কি আর করার বল। ফ্যামিলি বাসা। সমস্যা নেই। আর একটা প্যাকেট কিনে নে। রাতে ছাদে গিয়ে খাবো নে।
- বন্ধু এক প্যাকেট কেনো। দুই প্যাকেট কিনে নিবো। কিন্তু আমার রাতে খাইতে হবে।
- আচ্ছা ঠিক আছে। এখন কি শুধু সিগারেটই খাবো? নাকি সাথে আর কিছু খাওয়াবি?
- যা ইচ্ছে খেতে থাক। মামা যা চায় দাও তো। আজ বিল আমিই দিবো সব।
- আজ মনটা কি অনেক ভালো নাকি রে? তোর খালাতো বোনের সাথে মনে হয় আজ সুন্দর মতো কথা হয়েছে।
- হ্যা। আজ ও আমাকে প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় কল দিয়ে খবর নিয়েছে।
- ওরে বাবারে। তাইতো বলি। রিয়াদ আজ এতো খুশি কেনো।
.
পরে চা খেলাম। ঠান্ডা খেতে খেতে দোকান থেকে বাহির হলাম। ভালোই লাগছিলো। আর সবচেয়ে ভাল লাগলো বরিশালের মানুষ গুলো খুব ভালো তারা। দোকানদার মামাও খুব ভাল ব্যবহার করেছেন। পরে আরো কিছুক্ষণ রাস্তায় হাটা-হাটি করি।
.
- আচ্ছা রুবেল। এখন তোর কাহিনী বল। কতটুকু গভীরে গেলি?
- বন্ধু এহন ও আপনি থেকে তুমি তেও নামতে পারিনি।
- কি বলিস। তুই না বলতি। কত মেয়েকে পটিয়েছিস ১০ মিনিটে। আর দিয়ার সাথে তো সকাল থেকেই দেখতেছি। এখনো কিছুই বলতে পারিস নাই।
- না রে বন্ধু।
- হৃদয় তুই ও। রুবেলের কথা বিশ্বাস করে ফেলছোত? ও তো সবসময়ই চাপা মারে আমাদের সাথে। এ আইছে আমার বা* টা ১০ মিনিটে মাইয়া পটাইয়া ফেলে।
- এই হা*র পো হালা। তুই বেশি কথা কছ। তুই চুপ থাক। তুই তো সারাদিনই তোর খালাতো বইনের লগে কান্দা কাটি করোছ। আবার বড় বড় কথা কছ।
- তুই জানোছ? না জাইনা হুদাই কথা কছ।
- এইবার থাম। অনেক হইছে। কারো থেকে কেউ কম না।
- আমি কিছু বলছি নাকি? সিলেইট্টাই তো প্রথমে শুরু করলো।
- চুপ হালা বরিশাইল্লা।
- ধ্যাত তোরা ঝগড়া কর দুইজনে রাস্তায় দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া। আমি গেলাম।
.
বুঝি না ওদের দুইজনের কোন জন্মের শত্রু ছিলো। যে সবসময় শুধু লেগেই থাকে। তবে ওদের কাহিনী দেখে মজা কিন্তু ঠিকই নিতাম আমরা। তবে সবসময় লেগে থাকাটা বিরক্তিকর। আবার আসছি একটা জায়গায় বেড়াতে। এখানেই এসেও ওদের থেকে রেহাই নেই। আমি আর রবিন সামনে এসে পরি। পরে পিছনে তাকিয়ে দেখি ওরা দুইজন দুইজনের কাঁধে হাত দিয়ে আসতেছে। একটু আগেই কিন্তু ঝগড়া করলো। সাথে সাথেই সব ঠিক হয়ে গেছে। ওরা এরকমই। পরে বাসায় গিয়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম।
.
বাসায় যাওয়ার পর আংকেল ডাকে আমাকে। তার রুমে গেলাম। টয়ার বিয়ের ব্যাপারে কথা বলে। কিভাবে কি আয়োজন করলে ভাল হবে আমার কাছে জানতে চায়। এইরকম ব্যাপারটা আমার কাছে খুব ভালো লাগে। যে আমার থেকেও জানতে চায়। মনে হচ্ছিলো আমি পন্ডিত। পরে আমাকে দায়িত্ব দেয় বাড়ি সাজানোর। এবং গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান কিভাবে কি করতে হবে সেটাও জানাতে বলেন তাকে।
.
আংকেলের সাথে কথা বলে চলে আসলাম। এবং সবার সাথে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের ব্যাপারটা শেয়ার করলাম। টয়া বলে যে হলুদে ছেলেরা সবাই এক রংয়ের পাঞ্জাবি পরবে আর মেয়েরাও এক রংয়ের শাড়ি পরবে। পাঞ্জাবি আর শাড়ি একই রংয়ের হবে সেটাও বলে। শাড়ির কথা শুনে মনে পড়ে গেলো নীলার জন্য যে শাড়িটা কিনেছিলাম সেটার কথা। তাকে তখনও দেয়া হয়নি।
.
(চলবে)
.
.
লেখাঃ হৃদয় নাদিম

Comments