"ব্যাচেলর" (২০ তম পর্ব)


- এই শোনেন।
- জ্বি আমাকে ডাকলে?
- জ্বি আপনাকেই ডেকেছি। শুনে যান একটু।
- হ্যা অবশ্যই।
.
রিয়াদ এর সাথে কথা বলতে ছিলাম। তখনই নীলা আমাকে ডাকে। হয়তো কিছু বলবে তাই। নীলার কাছে গিয়ে বললাম।
.
- হুমম বলো।
- একটু বাহিরে যাবেন?
- কিছু লাগবে?
- আমার ফোনে টাকা রিচার্জ করতে হবে। বাসায় কল দিতে পারছিনা।
- ওহহহ আচ্ছা এই বিষয়। আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি।
- তাহলে তাড়া-তাড়ি যান একটু।
- কোথায় যাবো?
- দোকানে যাবেন।
- হাহাহা।
- হাসছেন কেনো?
- এমনি। মোবাইল চেক করে দেখো টাকা গিয়েছে কিনা।
- কে পাঠালো টাকা?
- ভুত পাঠিয়েছে। এখন বাসায় কথা বলো আগে।
- হুমম ঠিক আছে।
.
আমার বিকাশ একাউন্ট ছিলো। ঐ খান থেকে মোবাইল রিচার্জ করেছিলাম। কিন্তু নীলা সেটা বুঝতেও পারেনি। কি বোকা মেয়ে। নীলা পরে তার বাসায় কল দিয়ে কথা বলছিলো। আমি গিয়ে রিয়াদের সাথে কথা বলছিলাম। ওর হাতের কি অবস্থা সেটাই দেখছিলাম।
.
- রিয়াদ।
- হ্যা দোস্ত বল।
- তোর খালাতো বোনটাকে নিয়ে আয় একবার।
- কিভাবে আনবো? আমাদের এখানে তো বেড়াতেও আসতে পারে।
- না। যদি আনতেই হয় একেবারে বউ করে নিয়ে আসবো। এর আগে নয়।
- খাইছেরে। তোর মুখে বিয়ের কথা শুনে তো আমারই ভয় লাগছে। তুই কোন সাহসে এটা বলতে পারলি দোস্ত?
- কেনো? তোরা সবাই বউ নিয়া ঘুরছিস। আমার ইচ্ছে করেনা নাকি?
- আরে বোকা। এর কারণেই তো বললাম নিয়ে আসার জন্য।
- ঢাকার ওর চাচার বাসা। ও বলেছিলো এইবার আসবে।
- ঢাকার কোথায়?
- ধানমন্ডি নাকি কোথায় যানি বলেছিলো। ঠিক মনে নাই।
- তাহলে তো ভালই। অবশেষে তোর খালাতো বোনকে সরাসরি দেখতে পারবো।
- খালাতো বোন খালাতো বোন করিছ কেনো এত?
- তাহলে কি বলবো? খালাতো বউ?
- চুপ শালা। ও ফোন দিছে কথা বলি। তুই একদম চুপ করে থাকবি।
.
- হ্যালো বেবি। তোমার কথা ভাবতেছিলাম গো।
- ইশশশ। এত ঢং করে ডাকছো কেনো?
- ঢং করে ডাকছি কোথায়। তুমি সবসময় এরকম করো আমার সাথে।
- আচ্ছা বাদ দাও তো। কেমন আছো?
- হ্যা ভালো আছি। আমার বেবিটা কেমন আছে?
- হ্যা ভালো আছি। আমি কিন্তু আসলেই কিছু বুঝতেছিনা। তোমার এত দরদ কোথায় দেখে আসছে আজ?
- সবসময়ই তো থাকে।
- কি? তার মানে আমাকে সব সময় দরদ দেখাও তুমি?
- আল্লাহ্‌ এমন করছো কেনো?
- ঠিকই তো করছি।
.
ওদের কথা শুনে আমি হাসছিলাম। তখন মাথায় একটা দুষ্টামি বুদ্ধি আসলো। যে রিয়াদের এক্সিডেন্টের কথাটা জানাই। তাই রিয়াদকে বলে ফেললাম।
.
- কিরে রিয়াদ তোর হাতের অবস্থাটা কিরকম এখন?
- এই বেটা চুপ চুপ।
- এই কি হয়েছে তোমার হাতে?
- কই কিছুই না।
- তাহলে তোমার ফ্রেন্ড কি বললো এটা।
- আরে কিছুই বলে না। তুমি শুনতে ভুল করেছো মনে হয়।
- কিহ? তার মানে বুঝাতে চাচ্ছো আমি কানে কম শুনি?
- আরে বাবা তা কেনো বলতে যাবো।
- তাহলে বলো।
- আরে গতকাল রাস্তা দিয়ে হাটার সময় ব্যানের সাথে ধাক্কা খেয়ে একটু কেটে যায়।
- কেনো? চোখ কি আকাশের উপর রেখে রাস্তা দিয়ে হাটছিলে? নাকি অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাটছিলে।
- তুমি হৃদয়ের থেকে শুনে না। আমার কথা তো তুমি বিশ্বাসই করবা।
.
পরে আমার কাছে রিয়াদ মোবাইলটা দেয় কথা বলার জন্য। কিন্তু আমি তখন দুষ্টামির মুডে ছিলাম। আর ওদের ঝগড়া না দেখলে আমার ভালই লাগতো না। তাই আরো একটু বেশি প্যাচ লাগিয়ে দিলাম।
.
- হ্যালো।
- আসসালামু ওয়ালাইকুম ভাইয়া। কেমন আছেন?
- ওয়ালাইকুম সালাম। এইতো আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভাল আছি। তুমি কেমন আছো?
- জ্বি ভাইয়া ভাল আছি। আচ্ছা রিয়াদের কি হয়েছে?
- আর বলোনা। গতকাল কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে গিয়ে। পাব্লিকের  ধোলাই খেয়েছে।
- এই শালার পুত কি কছ এইগুলা?
- আমাকে সত্যিটা বলতে দে। এরকম করছিস কেনো রিয়াদ?
- না না জান। হৃদয় মিথ্যে বলতেছে।
- আচ্ছা তোমরা কথা বলো তাহলে।
.
মোবাইলটা রিয়াদের কাছে দিয়ে রুম থেকে চলে আসি। তখন রিয়াদের অবস্থাটা যে কিরকম হয়েছে সেটা বুঝতেই পারছেন। আমি পরে অন্য রুমে চলে গেলাম। যেখানে বাকি সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। আমাকে দেখে টয়া বলে। শয়তানের নানা আসছে।
.
- ওই মুটকি কি কইলি তুই?
- কংকাল উস্টা দিমু। আমি কিছু বলি নাই।
- তাইলে আমি কি ভুল শুনছি? চুল ধরে টান দিলাম গিয়ে।
- ঐ কুত্তাডা। চুল ছাড়।
- সুন্দর কইরা বল। নাহলে ছাড়মু না।
- আচ্ছা আচ্ছা বলতেছি। তুই চুল ছাড়।
- বল আগে।
- বললাম তো ছাড়।
- না এভাবে না। বলো হৃদয় ভাইয়া চুলটা ছাড়েন।
- ঐ কুত্তা ছাড়বি তুই।
- আচ্ছা যা ছেড়ে দিলাম।
.
- দেখছো নীলা হৃদয় আমার সাথে কেমন করে?
- শয়তানের নানারা তো এরকমই করে।
- দেখ। নীলাও বলে তুই শয়তানের নানা।
- বলুক। ও যা ইচ্ছে বলুক। তুই বলবি না শুধু।
- হুহ।
.
আমি গিয়ে নীলার পাশে বসি। ও বিছানায় বসে আছিলো। পরে তার কোলে মাথা রাখি। তখন অনেকটাই ফ্রি হয়ে গেছিলাম তাই সবার সামনেই যা খুশি করতে পারতাম। নীলা আমার মাথার চুল টেনে দিচ্ছিলো।
.
- এই বুড়া ছেলে। চুল-দাঁড়ি কাটেন না কেনো?
- বড় হউক। পরে কাটাবো নে।
- আর কত বড় হবে। কালই যাবেন সেলুনে।
- এখানে চুল কাটাবো না। ঢাকায় গিয়ে কাটাবো।
- কেনো। এইখানে কাটালে কি সমস্যা?
- আমি সবসময় যেখানে কাটাতাম ঐ খানেই কাটাবো। কারণ তারা বুঝে চুল কাটানোর সিস্টেমটা।
- আচ্ছা। তাহলে দাঁড়িটা কাইটেন।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
.
আমরা স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলতেছিলাম। এখন কেউ আর মাইন্ড ও করেনা। কারণ অনেকটা ফ্রি হয়ে গেছি। কথা বলতে ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই রিয়াদ ঐ রুম থেকে আমাদের রুমে এসে আমাকে ঘুষি মারে বকা বকি শুরু করে দিলো। কিন্তু শুধু আমিই জানতাম কারণটা আর অন্য কেউ জানতো না। পরে রিয়াদ সবাইকে যখন বলে কারণটা তখন সবাই বলে ঠিকই আছে তাহলে। আমাকে আর দুইটা ঘুষি দিবার জন্য বলে রিয়াদকে।
.
- তুই এখনই ওরে সত্যিটা বলবি। তুই জানিস কতো বড় ঝামেলা হইছে।
- তুই মেরেছিস কেনো। আমি বলবো না কিছুই।
- দোস্ত তুই না ভালা। এমন করিস না।
- তুই মারলি কেনো এভাবে?
- আচ্ছা যা আর মারমু না। এখন আসোছ না দোস্ত।
.
- আপনি এমন কেনো? যান বুঝিয়ে সত্যিটা বলে দিন।
- জান বললে?
- জান বলিনি। বলেছি যান। মানে যেতে বলছি।
- ওহহহ আচ্ছা। আমি ভেবেছি জান বলেছো।
- আচ্ছা বলবো। আগে সত্যিটা বলে আসেন পরে।
- সত্যি? ঠিক আছে এখুনি বলছি। ঐ রিয়াদ তোর বইনেরে কল দে তাড়া-তাড়ি।
.
পরে সত্যিটা বললাম। বললাম যে আমি দুষ্টামি করে কথাটি বলেছিলাম। সমস্যা সমাধান করে আবারো নীলার কাছে এসে শুয়ে পড়লাম। আমি এতোটাই নিলর্জ ছিলাম যে সবার সামনে টু কোয়াটার প্যান্ট পরেই ছিলাম। কিন্তু সবাই আপন মানুষ তাই কিছু মনে করতো না। একটু পর রুবেল বলে আমাদের রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাবে ট্রিট দিবে। পরে রেডি হলাম সবাই। সেইদিন ঘটলো আরেকটি ঘটনা। যেটার জন্য আমি সবসময় ভয় পেতাম। নীলা অনেক সুন্দরী ছিলো। তাই নীলাকে নিয়েই ভয় পেতাম। তো ঐ দিন সবাই বের হই। কিন্তু কয়েকটা ছেলে নীলাকে টিজ করে। বিষয়টা আমি মেনে নিতে পারিনি। ঐ ছেলে গুলোর সাথে ঝামেলা করি।
.
তাই আর ঐ দিন রেস্টুরেন্টে যাওয়া হয়নি। মন মেজাজ পুরোটাই খারাপ ছিলো। সবার সামনেই ঐ দিন স্মোকিং করি। পরে রিয়াদ খোঁজ নেয় ঐ ছেলেদের। শেষ পর্যায় দিত্বীয় বারের মতো আবারো ধোলাই করলাম ওদের। এটা নিয়ে ঐ দিন রাতেই বিচার হয়। সে এলাকার মুরুব্বীরা বিচার করেন। কিন্তু দোষটা যেহেতু ওদেরই ছিলো তাই ওরাই খারাপ হলো সবার কাছে।
.
ইভটিজিং করা অপরাধ। যেই করুক এটার জন্য কোনো মাপ নেই। আর নীলার জায়গায় অন্যকেউ থাকলেও ঠিক ঐরকমটাই করতাম। কারণ এইগুলো সমাজের জন্য বেমানান। পরেরদিনই আমাদের রুবেলদের বাসা থেকে চলে আসতে হয়। কারণ ঝামেলার মধ্যে না থাকাটাই ভালো। আংকেল আন্টিকে বিদায় জানিয়ে আমরা টয়াদের বাড়িতে ফিরে আসি।
সি এন জি করে সরাসরি টয়াদের বাড়িতে চলে আসি। ওদের কে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমরা একটু মামার দোকানে গেলাম চা খেতে। মামা আমাদের দেখে সুন্দর একটা হাসি দিয়ে বলেন।
.
- মামারা কেমন আছেন?
- এইতো মামা। আপনি কেমন আছেন?
- হ। মামা আমিও ভালা আছি। বসেন আপনারা আমি চা বানিয়ে দিচ্ছি। এই নিন প্যাকেট।
- ধন্যবাদ মামা।
.
আমাদেরকে নতুন সিগারেটের প্যাকেটটাই দিলো। আমি, রবিন, রিয়াদ ও রুবেল মন ভরে সিগারেট খেলাম। পরে মামা আমাদের জন্য স্পেশাল চা বানিয়ে দিলেন। মামার হাতের চা খেয়ে মনটাই ভরে গেলো। বিল দিয়ে মামার দোকান থেকে বের হই। তখন সন্ধ্যা হয়ে যায়। মোবাইলটা বের করি পকেট থেকে। দেখি নীলা কল করেছে।
.
- কোথায় আপনি?
- এইতো বাসার কাছা-কাছি। কেনো?
- বাসায় আসেন তাড়া-তাড়ি। হালিম রান্না করেছে বাসায়।
- ওহহহ। সত্যি? আসতেছি।
- হুমম আসেন। আর শোনেন।
- হুম বলো।
- আপনার পাশে কেউ আছে?
- হ্যা আছে। কেনো?
- একটু একা হউন। একটা কথা বলবো।
- হুমম বলো। সমস্যা নেই। আমার মোবাইলের সাউন্ড শুনবে না।
- আচ্ছা। আই লভ ইউ।
- কি বললে শুনতে পারিনি। আবার বলো।
- বলছি। আমি আপনাকে ভালবাসি।
- এখনো শুনতে পারিনি। আর এক বার বলোনা প্লিজ।
- যাহ শয়তান পারবো না। তাড়া-তাড়ি বাসায় আসেন। রাখলাম।
.
সবাই বাসায় গেলাম তাড়া-তাড়ি করে। হালিম আমার খুব প্রিয় ছিলো। আর আমার পছন্দের খাবার গুলোই রান্না করছে। আন্টি জানতেন আমি এইগুলো খুব পছন্দ করতাম। তাই রান্না করেন। বাসায় গিয়ে হালিম খেলাম। আর নীলাকে জ্বালাচ্ছিলাম ঐ কথাটি আবার শুনবার জন্য। কিন্তু সে আর বলছে না। তার মুখে এই কথাটি প্রথম শুনেছিলাম লঞ্চে। এতদিন পর আজ বলেছে। অনেক জ্বালাচ্ছিলাম পরে ঠিকই সবার সামনেই বলে ঐ কথাটি। শুনে মন ভরে গেলো। আর আমিও শান্ত হইলাম।
.
(চলবে)
.
.
লেখাঃ হৃদয় নাদিম

Comments