→আসসালামু আলাইকুম।
→ওয়ালাইকুম আসসালাম। কেমন আছিস বাবা?
→আলহামদুলিল্লাহ্। ভাল আছি মা। তুমি কেমন
আছো?
→আমিও ভাল আছি। আর আজই বউমাকে নিয়ে
এসে পড়।
→আজই??
→হ্যা আজই আসবি।
→কিন্তু মা আজ তো আমার সময় নাই। কাল
গেলে হয়না?
→তুই বউমাকে ফোনটা দে এক্ষুনি
→আচ্ছা দিচ্ছি।
.
মিষ্টিকে ডাকলাম। ও হ্যা মিষ্টি হলো আমার পাগলি বউ। ভালবেসেই
বিয়ে করেছি আমরা। প্রায় দু'বছর হতে যাচ্ছে। আমরা আমাদের পরিবার কে জানাই আমাদের সম্পর্কের কথা। তারপর তাদের মতেই পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হয়।
.
.
→হ্যা বলো।
→মা তোমার সাথে কথা বলবে।
→বউমা তুমি এক্ষুনি রেডি হয়ে নাও আর হৃদয়কে
বলো তোমাকে নিয়ে যেনো আজই রওনা
দেয়।
→ঠিক আছে আম্মু। কিন্তু আপনার ছেলেকি আমার
কথা শুনবে? তিনি তো সবসময় তার ব্যস্ততা
নিয়েই বসে থাকে। (আরো অনেক কথা)
→এইবার তুমি বলো। যদি না শোনে তাহলে
দেইখো কি করি।
.
বলেই ফোন রেখে দিলো "মা"। অনেকদিন
ধরেই যেতে চাচ্ছি তবুও যেতে পারছিলামনা।
নারায়ণগঞ্জ এর ছোট্ট একটি এলাকায় জন্ম।
ঐখানেই সময়টা কেটেছে। কিন্তু ট্রান্সফার
হয়ে চট্টগ্রামে আসতে হলো। ২-৩ মাস
হয়ে গেছে বাসায় যেতে পারছিনা সময়ের
কারণে। তাই এইবার মা জোর করছে যাওয়ার
জন্য।
.
→আমি তোমাকে সময় দেই না?
→দাও ই তো না। <মুচকি হেসে>
→আচ্ছা কথাটা যেনো মনে থাকে। কেমন?
→হ্যা মনে তো থাকবেই। এখন রেডি হয়ে
নাও আম্মু খুব করে বলেছে কিন্তু।
→আচ্ছা তুমি ব্যাগ গুছিয়ে রেখো। আমি বসের
সাথে কথা বলে দেখি ছুটি নেওয়া যায় কিনা।
→যেভাবেই হউক ছুটি নিবা।
→আচ্ছা দেখি চেষ্টা করে।
.
বসকে ফোন দিয়ে ছুটির জন্য বললাম। যাক অনেক কষ্টে ছুটি নিলাম। তো অবশেষে এইবার বাসায় যাবো। খুব ভাল লাগছে অনেকদিন পর
সবার সাথে দেখা হবে।
.
.
→কি হয়েছে ছুটি নিলে?
→হুমম নিয়েছি।
→যাক তাহলে অনেকদিন পর যাচ্ছি।
→হুমম। তুমি রেডি হয়েছে??
→ রেডি। তুমি ও হয়ে নাও।
→শার্টের বোতামটা লাগিয়ে দিবে।
→ইসসসস। এখনো শিখোনি বোতাম লাগানোটা।
.
বলে কাছে এসে বোতাম লাগিয়ে দিচ্ছে।
আর আমি তার দিকে তাকিয়েই আছি। বউটা আমার
প্রতি এত খেয়াল রাখে কিন্ত তাকে বেশি সময়ই
দিতে পারিনা ব্যস্ততার কারনে।এখন মিষ্টিও আমার
দিকে তাকিয়ে আছে। অনেকদিন পর দুজনের
অপলক দৃষ্টিতে দুজনকে দেখছি।
.
→এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?
→তোমার চোখটা দেখতে এত পঁচা
কেনো??
→কিহ আমার চোখ পঁচা? যাও দেখতে হবে না
আর।
.
হাতটা ধরে টান দিতেই আমার বুকের মধ্যে
এসে পড়লো। একটু জড়িয়ে ধরলাম। কপালে
একটা চুমু খেলাম।
.
→আই লভ ইউ।
→লভ ইউ টু পাগল।
→হুমম পাগল কিন্তু শুধু তোমার জন্য।
→ইসসসস চাপা।
→উঁহু চাপা না।
→আচ্ছা বুঝলাম। এখন তো ছাড়ো। বের হতে
হবে তো তাই না।
→হুমমম চলো।
,
বাসে উঠলাম। জানালার পাশের সিট টাতে মিষ্টিকেই দিতে হবে। ও আবার জানালার পাশ ছাড়া বসতে পারে না। আর আমার রাতে ভ্রমন করতে খুব ভাললাগে। আমি আমার বউটার হাত ধরে বসে আছি।
আর সে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে । বাতাসে তার চুল গুলো আমার চোখে-মুখে লাগছিলো তখন কেনো জানি মনে হচ্ছে নতুন করে প্রেমে পরতে তার সাথে। আমার কাঁধে তার মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে আর আমি তার ঘুমান্ত চেহারার দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেলো। আর আমার দিকে তাকাতেই দেখছে আমি তার দিকে আছি।
.
→এইভাবেই সবসময় দেখবে তো আমাকে?
→হুমম।
→সবসময় তোমার কাঁধে মাথা রেখে
ঘুমোতে দিবে?
→হুমম।
→ভালবাসবে তো আমায়?
→হুমম অনেক বেশি।
,
,
অবশেষে বাসায় এসে পৌঁছলাম। সবাই খুশি আমাদের দেখে। অনেকদিন পর সবাইকে দেখে খুব ভাল লাগছে। পরে জানতে পারলাম আমার ছোট বোন রিতাকে আগামীকাল দেখতে আসবে। আর এর কারণেই আমাদের আসতে বলা। ঘুমাতে যাবো এমন সময়ই মিষ্টির আবদার সে আইস্ক্রীম খাবে। কিন্তু এত রাতে কি দোকান খোলা থাকবে। তবুও অনেক খোজা-খুজি করে একটা দোকান খোলা পেলাম।আইস্ক্রীম নিয়ে আসলাম এমনটা মাঝে মাঝেই আবদার করে।
.
→এই যে তোমার আইস্ক্রীম
→ওয়াও তুমি সত্যিই এনেছো?
→হ্যা তুমি চেয়েছো আর আমি আনবো না।
→সবসময় আমার এরকম আবদার শুনবে?
→হুমম শুনবো তো।
.
সেদিন ছিলো আমাদের জন্য ভালবাসার রাত। ভালবাসলাম দুজন দুজনাকে। এভাবেই বাসতে চাই তাকে সারাজীবন। সে আমাকে পাগল বলে ডাকতো। আর আমি বলতাম আমি শুধুই আমার "মিষ্টির পাগল "
.
.
লেখাঃ হৃদয় নাদিম।

Comments
Post a Comment