- হৃদয় বাবা একটু শুনো।
- জ্বি আংকেল আসছি।
- বাবা। কাল একটু ফুলের দোকানে গিয়ে ভাল মতো বলে এসো তো। ভাল ফুল গুলো যেনো নিয়ে আসে।
- আংকেল। আমি ফোন করে বলে দিয়েছি। তারা দুপরের সময়ই আসবে স্টেজ সাজানোর জন্য।
- ওহ আচ্ছা তাহলে ঠিক আছে বাবা। তোমাকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে বাবা।
- আহা আংকেল এটা কোনো ব্যাপার না।
- টয়া যেমন আমার মেয়ে। তুমি আমার ছেলের মতোই। যদি টয়া ভাই থাকতো তাহলে সেই এই কাজ গুলো করতো।
- আংকেল আমার কাছে ভালই লাগছে। আপনারা এত ভরসা করেন আমাকে নিয়ে। এতেই আমি খুশি।
- যদি তোমার আব্বা-আম্মা থাকতেন তাহলে খুব ভাল লাগতো।
- তাদের সমস্যা ছিলো। তাই আসতে পারেনি। সমস্যা নেই আংকেল। অন্য একদিন তারা আসবেন।
- আচ্ছা বাবা। তোমরা আড্ডা দেও। আমি টয়ার মা'কে বলি তোমাদের জন্য নাস্তা দিতে।
- আংকেল সমস্যা নেই। আন্টি এমনিতেই অনেক ব্যস্ত। আর আমাদের ক্ষুধা পেলে আমরা নিয়েই খাবো।
- তাহলে তো সেটা আরো ভালো। আচ্ছা বাবা আমি একটু নিচে যাই। ঐ খানে গিয়ে দেখি কি অবস্থা।
- আচ্ছা আংকেল যান। আর কোনো দরকার হলে আমাকে জানাবেন।
- আচ্ছা বাবা।
.
আংকেল চলে যান আমার সাথে কথা বলে। আমাদের সাথে টয়া আরো কিছু কাজিন থাকে। সবার সাথেই পরিচয় করিয়ে দেয় টয়া। এবং ভালো ভাবেই কেটে যাচ্ছিলো দিন গুলো। সত্যি আমাকে তারা অনেক ভরসা করতো। আর আমাদের আপ্যায়নের কথা না বলি। কারণ বরিশালের মানুষদের মন অনেক বড়। সেটা বরিশাল না আসলে বুঝতাম না।
.
- টয়া।
- হুম বল দোস্ত।
- সব কিছু ঠিক ঠাক তো?
- হ্যা সব কিছু ঠিক ঠাক। আচ্ছা তোরা কি পার্টি করবিনা হলুদে?
- সেটা তো করবোই।
- আমি কিসের কথা বলেছি সেটা বুঝতে পেরেছিস?
- হ্যা বুঝেছি।
- সব কিছু এরেঞ্জ হয়েছে?
- হুমম সব সম্পূর্ন কমপ্লিট হয়েছে। কেনো তুই ও ড্রিংক করবি নাকি?
- আমি একটু খাবো।
- পরে যদি পাগলামি করিস।
- আরে না অভ্যাস আছে তো।
- কি বলিস? কেমনে কি?
- ঐটা তোর জানতে হবে না।
- আচ্ছা তাহলে তুই সবার সাথে কথা বল। আমি একটু আসছি।
- হুমম যা দোস্ত।
.
আমি একটু আমাদের রুমে আসি। সারাদিন খুব প্যারার মধ্যে কাটে। সিগারেট খাওয়ারও সময় পাইনি। তাই একটু সময় পেয়ে গেলাম। বারন্দায় গিয়ে সিগারেট ধরাই। কিন্তু পিছনে তাকিয়ে দেখি নীলা দাঁড়িয়ে আছে। একেবারে হাতে নাতে ধরা খেলাম নীলার কাছে। সিগারেটটা সাথে সাথে বাহিরে ফেলে দেই।
.
- মানা করেছিলাম না?
- হ্যা।
- তাহলে এটা আবার কেনো?
- সরি। আর হবে না।
- আমাকে ভালই তো বাসেন না। বাসলে ঠিকই আমার কথা ফেলতেন না।
- আহা। এভাবে বলছো কেনো? সত্যিই এখন খুব কম স্মোক করি।
- করেন আপনি আপনার স্মোক। এটা নিয়ে থাকেন আপনি।
.
বলে চলে যেতে লাগলো। সাথে সাথেই হাতটি ধরে বুকে নেই। সেই বুকের সাথে ঝাপটে ছিলো। নীলা আমার থেকে লম্বায় একটু খাটো ছিলো। মানে পার্ফেক্ট ছিলো। দুই জনে একদম চুপ। শুধু দুইজনের নিশ্বাসের আওয়াজ হচ্ছিলো।
.
- রাগ করো না প্লিজ। আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।
- তাহলে প্রোমিজ করুন আর এইগুলো করবেন না।
- আচ্ছা অনেকদিনের অভ্যাস তো। ছাড়তে সময় লাগবে। কিন্তু কথা দিচ্ছি তোমাকে। এখন থেকে একেবারে কমিয়ে দিবো। শুধু একটু সময় লাগবে।
- আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু আমাকে কষ্ট দিবেন না কিন্তু।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
- ভালবাসি।
- আমিও তো।
- আমিও তো কি?
- আমিও আমার আয়াতের আম্মুটাকে অনেক ভালবাসি।
- আচ্ছা ঠিক আছে। এখন ছাড়েন। কেউ চলে আসতে পারে।
- আসুক। আসলে কি হয়েছে।
- ইশশ কি সাহস ভীতুরামের।
- আমি ভীতু না। হুহ।
- সেটা বুঝাই যাচ্ছে।
.
হঠাৎ করে রিয়াদ আসে আমাকে খুঁজতে। তাই রিয়াদের কথা শুনে তাড়া-তাড়ি নীয়াকে বুক থেকে সরিয়ে নিলাম। কারণ ওরা কি না কি ভাববে এটা ভেবে।
.
- কিরে বন্ধু তোকে খুঁজতেছি আমি। আর তুই এখানে। ও সাথে দেখি আমাদের ভাবিও।
- সমস্যা নেই। কেনো খুঁজছিলি দোস্ত?
- এমনি। আজ তো সারাদিন ব্যস্তই ছিলি।
.
নীলা চলে যায় রিয়াদের আসার পর। পরে আমি আর রিয়াদ কথা বলতে থাকি। অনেকক্ষণ কথা হয় রিয়াদের সাথে। রিয়াদ হঠাৎ করে বলে ফেলে।
.
- দোস্ত আমার আর একা ভাল লাগছেনা রে। ওকে নিয়ে এসে পরবো।
- কি বলিস? আসলেই?
- হ্যা দোস্ত। তোদের তো একটা কথা বলাই হয়নাই। লুনার সাথে আমার সম্পর্কের কথাটা আমাদের ফ্যামিলি সবাই আগে থেকেই মেনে নিয়েছে। আর তারা বলেছিলো আমার পড়া-লেখা শেষ হলেই আমাদের পারিবারিক ভাবে বিয়ে দিবে।
- আলহামদুলিল্লাহ্। শালা এই কথাটা তুই এতদিন বলিসনি কেনো?
- এমনি বলিনি বন্ধু। কিন্তু আমার আর ভাল লাগছে না। আমি চিন্তা করতেছি লুনাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসবো। আর তোদেরকেও ছাড়তে পারবো না। তাই ঢাকায় গিয়ে মামার সাথে যোগাযোগ করবো।
- কেনো?
- মামা একটা ব্যাংকে চাকরি করে। আর আমাকে আগেই বলেছিলো যে ব্যাংকের একটা চাকরিতে এটেন্ড করতে। কিন্তু আমি তখন না করে দেই।
- আচ্ছা তাহলে তো ভালই হলো। আচ্ছা আগে তাহলে ঢাকায় যাই পরে না হয় এই ব্যাপারে কথা বলবো।
- ঠিক আছে দোস্ত। আর একটি কথা। আমরা তো এখন চার বন্ধু হয়ে গেছি। রবিন তো আমাদের বন্ধুর মতোই হয়ে গেছে। আমার ইচ্ছে আছে আমরা ব্যাচেলর থেকে সবাই বিবাহিত ব্যাচেলর হবো। আর একসাথেই থাকবো।
- আচ্ছা দোস্ত ঠিক আছে।
- রুবেলেরও তো ইয়ে হয়ে গেলো। হয়তো খুব শীগ্রই রুবেল আর দিয়ার মধ্যেই হয়ে যাবে। এখন যদি নীলার বাবা-মা মেনে নেয় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ্।
- দোয়া করিস দোস্ত। যাতে সব কিছু সহজেই হয়ে যায়।
- অবশ্যই দোস্ত।
- আচ্ছা নে বিড়ি খা।
- তুইও খা।
- নারে দোস্ত নীলা চায়না আমি এইগুলো খাই। আর আমি এখন থেকে চেষ্টা করবো এইগুলো থেকে বিরত থাকার।
- দোস্ত তোর মুখে এইগুলো মানায় না। আমি তো জীবনেও ছাড়তে পারবো না।
- লুনা আসুক পরে দেখা যাবে।
- কথা খারাপ বলিস নাই। লুনা তো জানেই না যে আমি এইগুলো করি।
- এইতো এতক্ষণে লাইনে আইছো বন্ধু। সময় আসুক সবাইকেই ছাড়তে হবে। দেখছিসনা রুবেল এখন একদমই ছেড়ে দিয়েছে।
- তোরা ছেড়ে দিলে আমিও ছেড়ে দিবো।
- আচ্ছা ভালো কথা। হাতের ব্যান্ডেজ খুলেছিস কবে?
- আজ সকালে গেছিলাম দোস্ত।
- এখন ব্যথা হয়?
- না ঠিক আছে দোস্ত।
- ঠিক থাকলেই হলো।
.
রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরি। কিন্তু ঘুম আসছিলো না নীলার কথা খুব মনে পড়ছিলো। বসে বসে নীলার ছবি গুলো দেখছিলাম। ওর ছবি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যাই। সকালে ঘুম থেকে উঠি। নাস্তা করে একটু বাহিরে গেলাম হাটতে। বাড়ি ভরতি মেহমান ছিলো। তাই বাহিরে গিয়ে হাটছিলাম। বাড়িটা কি সুন্দর করে সাজিয়েছে। বিয়ে বাড়ি বলে কথা সাজাবেই তো। মেয়েরা চলে গেলো পার্লারে। আমিই এগিয়ে দিয়ে এসেছিলাম।
.
আমিও স্টেজে ফুল সাঁজাতে লোকদের সাহায্য করি। চা নাস্তা দিয়ে আসলাম তাদেরকে। সাউন্ড সিস্টেমের লোকরাও আসা শুরু করে। সবাই মিলে ছাদে উঠালাম সাউন্ড সিস্টেম গুলো। সন্ধ্যা হয়ে যায় আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম তাই ওদেরকে নিয়ে আসতে যেতে পারিনি। রিয়াদ ওরা যায় ওদের নিয়ে আসার জন্য। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটা একদিনেই হয়ে যায়। বরের বাড়ি টয়াদের গ্রামের পাশের গ্রামেই। তাই একদিনেই করে অনুষ্ঠানটা। আমি পাঞ্জাবি পড়বারও সময় পাইনি। একা একাই সামলাতে হয়েছে।
.
সবাই চলে আসে। অনুষ্ঠানটাও শুরু হয়ে যায়। আমি নীলাকেও দেখার সুযোগ পাইনি। টয়ার শ্বশুর বাড়িতে যেতে হয় একটা কাজে। তাই সাথে রিয়াদকে নিয়ে যাই। রাস্তায় জ্যাম ছিলো তাই আসতে আসতে একটু দেড়ি হয়ে যায়। আটটা বেজে যায় টয়াদের বাসায় আসতে আসতে। বাসায় ঢুকে আগে ছাদে গেলাম সবাইকে দেখতে। টয়া স্টেজে বসে আছে। সবাই হলুদ ছোঁয়াচ্ছে। আমি গিয়ে নীলাকে খুঁজে বের করি। তাকে তো চেনাই যাচ্ছিলো না। এমনিতেই অনেক সুন্দরী ছিলো। তার মাঝে আবার সেঁজেছে। রুমে আসি টয়ার সাথে দেখা করে।
.
- এই কি তুমি এখানে বসে আছো কেনো?
- আপনার জন্য বসে আছি।
- সরি গো। রাস্তায় খুব জ্যাম ছিলো।
- হ্যা বুঝতে পেরেছি। এখন যান রেডি হয়েনিন। পাঞ্জাবি বিছানার উপরে রাখা আছে। আপনারটা এবং রিয়াদ ভাইয়ার পাঞ্জাবি রাখা আছে।
- আচ্ছা গো। আসতেছি রেডি হয়ে।
.
পরে গিয়ে রেডি হয়ে আসলাম। নীলা হলুদ রংয়ের শাড়ি পড়েছিলো। নীলাকে এই প্রথম শাড়িতে দেখলাম। আর সে প্রথম বারই শাড়ি পড়েছে। শাড়িতে নীলাকে আরো বেশি সুন্দরী লাগছিলো। আমি তো চোখের পলকই ফেলতে পারছিলাম না। আমি আর রিয়াদ পরে আসলাম রেডি হয়ে। পরে টয়াকে হলুদ ছোঁয়ালাম। একসাথে গ্রুপ ফোটো তুললাম।
.
নীলাকেও একটু সময় দিলাম। অনেকে ভেবেছে আমরা স্বামী-স্ত্রী। তাদের কথা শুনে আমি আর নীলা মুচকি হাসি। ভাল ভাবেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটা শেষ হয়। আমরা ড্রিংক করায় ব্যস্ত হয়ে গেলাম। টয়াকে একটু খাওয়ালাম। বেশি খাওয়ালে আবার পাগলামি শুরু করে দিবে। আমরা সবাই একসাথে ড্রিংক করি। মিউজিকের সাথে সাথে নাচা-নাচি করি। নীলা তো আমার বুকে এসে পড়ে। সব মিলিয়ে খুব ভাল ভাবেই জমেছিলো।
.
আর অন্যদিকে রিয়াদ ওভার লোড হয়ে যায়। রিয়াদের পাগলামি দেখে তো আমরাও মজা নিলাম। কিন্তু শেষ পর্যায় রিয়াদ বমি করে বাসিয়ে দেয়। ওরে তেতুলের আচার খাইয়ে ঠিক করলাম। যাক ভালোই ছিলো দিনটা।
.
- কিরে টয়া। আর কত নাচবি?
- যা কুত্তা আমি নাচলাম কোথায়?
- আচ্ছা সমস্যা নেই।
- হুমম।
.
সবাই যখন নাচে ব্যস্ত ছিলো। তখন নীলা আমাকে হাতে ধরে টেনে সাইডে নিয়ে আসে। আমিও তার সাথে সাথে চলে আসি।
.
- এই।
- হুমম।
- বুকে নাও না।
- সবাই দেখবে তো।
- দেখুক। তুমি বুকে নেও।
- আচ্ছা আসো বুকে।
.
নীলাও আপনি থেকে তুমি করে বলে সেইদিন। ড্রিংক করে সবারই মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি নীলাকে বুকে নিয়ে আশে পাশে তাকিয়ে দেখছি। রুবেলের দিকে চোখ যেতেই দেখলাম দিয়ার সাথে ভালই নাচছিলো। রবিন আর ওর বউ ও। শুধু বাকি রিয়াদ একাই ছিলো। বেচারা একা একাই লাফাচ্ছিলো।
.
(চলবে)
.
.
লেখাঃ হৃদয় নাদিম

Comments
Post a Comment