✴স্বপ্নময়ী✴ (১২তম পর্ব) (শেষ পর্ব)


ঢাকায় এসে পৌঁছে। সবাই অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছে। ভোরে এসে পৌঁছেছে বাসায়। সবাই ঘুমাচ্ছিলো। ঘুম থেকে উঠে দুপুরবেলা। দুপুরের খাবার খেয়ে নিলো সবাই একসাথে বসে। খাওয়া শেষ করে সবাই মিলে গল্প করছিলো। পিয়াস বসে বসে ঘুমোচ্ছে। কিছুদিন ধরে তার ঘুম হয়নি বলে শরীর একটু দূর্ভল হয়ে যায়। শরীর ঠিক তো সবকিছুই ঠিক। আর শরীর ঠিক না থাকলে হাজারটি ভালো কাজও বড্ডো বাজে মনে হয়।
.
হৃদয়ের ফোন পেয়ে উঠে অন্যরুমে যায় পিয়াস। পিয়াস ভুলে যায় হৃদয়কে ফোন করতে। হৃদয় বলেছিলো বাসায় পৌঁছে যানি তাকে জানায়। কিন্তু ফোনটা সাইলেন্ট করে ঘুমিয়ে যায় পিয়াস। এইদিকে ৫০+ কল দিয়েছে হৃদয়। রিসিভ করতেই বকা শুনতে হলো।
.
- কিরে এত গুলো কল দিলাম ধরলি না কেনো?  আর ঠিক মতো পৌঁছেছিস?
- হ্যাঁ দোস্ত। আসলে ঘুমিয়ে পড়ছিলাম তাই তোর কল ধরতে পারিনি।
- শালা। তুই তো ঘুমালে আর কিছু হুশ থাকেনা।
- হুমম। তো কি করছিস?
- এইতো হাটা-হাটি করছি দোস্ত। তুই কি করছিস?
- বসে গল্প করছিলাম।
- হুমম গল্প তো করবিই। তোরই তো দিন এখন। তো ভাবি কি করছে?
- দোস্ত একদমই ভুলে গেছিলাম রে স্নিগ্ধার কথা। ভালই হলো মনে করিয়ে দিলি।
- শালা তুই আসলেই একটা বলদ।
- হুম। আচ্ছা দোস্ত পরে কথা হবে। এখন গিয়ে দেখি তোর ভাবি কি করছে।
- হুমম দেখ। আর শোন শোন।
- হুমম দোস্ত বল।
- ভাল মতো থাকিস। ভাবিকে কষ্ট দিসনা কিন্তু।
- হুম দোস্ত। আচ্ছা তাহলে রাখি। তুই ও ভাল থাকিস।
.
আসলেই পিয়াসের বন্ধু গুলো খুবই ভাল। দশ বিশটা নয় মনের মতো দুই একটা বন্ধুই যথেষ্ট। যারা মনের খবর বুঝে নিতে পারে। কষ্ট পেলে বলতে হয়না এমনিতেই বুঝে নিতে পারে চোখ দেখলেই। আসলেই হৃদয় এবং নাদিমের মতো বন্ধু পেয়ে পিয়াস নিজেকে খুব বেশি প্রাউড ফিল করে। করাটাই স্বাভাবিক। মা-বাবার পরে বন্ধুরাই সবচেয়ে প্রিয় আপনজন।
.
স্নিগ্ধাকে খুঁজতে খুঁজতে রুমে যায়। কিন্তু কেউই নেই রুমে। পিয়াস ভাবে ছাদে গেছে মনে হয়। তাই ছাদে চলে গেলো। কিন্তু ছাদেও তাকে দেখতে পেলোনা। সবাই আছে কিন্তু স্নিগ্ধাকেই দেখতে পাচ্ছেনা। ছাদ থেকে নিচে নামার সময় পিয়াসের মায়ের চোখে পড়ে যায়।
.
- পিয়াস।
- হুমম বলো আম্মু।
- কাকে খুঁজছিস?
- কই কাউকে না তো।
- মিথ্যে বলা শিখে গেছিস? 
.
হেসে দিলো সবাই। পিয়াসের ফুপ্পিও হেসে দেয়। পিয়াস খুব লজ্জায় পড়ে যায় তাদের হাসা-হাসি দেখে। ব্যাপারটা তার ফুপ্পি বুঝে যায়। এবং পরে তাকে বলে।
.
- স্নিগ্ধা তো রুমেই আছে। দেখিসনি?
- না। মানে।
 কথাটি বলেই চুপ হয়ে গেলো পিয়াস। এবং মনে মনে ভাবছে কিভাবে বুঝলো তারা।

- স্নিগ্ধা তোর জন্য নুডুলস রান্না করছে। তোর তো আবার অনেক পছন্দের এটা। আর স্নিগ্ধাও খুব ভাল নুডুলস রান্না করতে পারে। তাই তোর জন্য রান্না করছে। <কথাটি তার ফুপ্পি বলে>
- হুমম আগে থাকতেই ট্রেনিং দিচ্ছে। যাক বাবা আমার আর বেশি কষ্ট করতে হবেনা।
- আম্মু। তুমিও শুরু করে দিলে?
- ওই কি হইছে শুনি। যেটা সত্যি সেটাই তো বলছি। আর এতো কথা না বলে তোর আব্বুকে ফোন করে জানিয়ে দে।
- কি জানাবো?
- কি জানাবি মানে? তোদের এংগেজের কথা জানাবি।
- যাও আমি পারবো না বলতে।
.
কথাটি বলেই চলে আসে নিচে। পিয়াস একটু বেশি লজ্জা পায়। আর লজ্জা পাওয়ারই কথা। তার বাবাকে কিভাবে বলবে এইসব কথা। যতই ফ্রি থাকুক না কেনো। এইসব কথা কি বলা যায়? সিঁড়ি দিয়ে নামছিলো আর মনে মনে এই কথা গুলো ভাবছিলো।
.
সোজা রান্নাঘরে চলে গেলো। গিয়েই দেখতে পেলো তার স্বপ্নময়ীকে। দাঁড়িয়ে আছে স্নিগ্ধা। পিয়াস পিছন থেকে তার চোখে হাত দিয়ে ধরে। স্নিগ্ধা সাথে সাথে বুঝে ফেলে যে এটা পিয়াস।
.
- কি করছো গো ?
- দেখছো না কি করছি?
- হুমম দেখছিই তো।
- তাহলে আবার বলছো কেনো?
.
স্নিগ্ধার মুখ থেকে এরকম কথা শুনে পিয়াসের মনটা একটু খারাপ হয়ে যায়। চুপ-চাপ দাঁড়িয়ে আছে তার পাশে। স্নিগ্ধা মনে হয় বুঝতে পারে কিছুটা। তাই পিয়াসকে ডাক দেয়।
.
- কি গো। কিছু বলছো না যে?
- কি বলবো। কিছু বলার নেই।
- রাগ করেছো?
- হুমম।
- আমার বাবুটা রাগ করতেও পারে?
- হুমম পারে।
- আচ্ছা আদর করে দিলে রাগ কমাতে পারবো তো?
.
স্নিগ্ধা কথাটি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই পিয়াস তার স্বপ্নময়ীকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে।
.
- এই বোকা কি করছো তুমি? কেউ দেখে ফেলবে তো।
- দেখুক। কি হয়েছে তাতে?
- ইসসসস। শোনেন জনাব। যা করার বিয়ের পর। এখন কিছু নয়।
- না না। যা করার এখনই।
- উঁহুম।
- প্লিজ এমনটা করেনা।
- তুমি আসলেই একটা পাগল।
.
স্নিগ্ধাকে সামনে নিয়ে তার গালে ছোট্ট করে চুমো একে দেয়। তারপর দু'জন দু'জনকে জড়িয়ে ধরে। কয়েকমিনিট থাকার পর স্নিগ্ধা বলে।
.
- আরে ছাড়ো ছাড়ো। নুডুলস পুড়ে যাচ্ছে তো।
.
হালকাভাবে ডাক্কা দিয়ে সড়িয়ে দেয় পিয়াসকে। এবং নুডুলস কিছুটা পুড়ে যায়। এখন সব দোষ পিয়াসের উপর এসে পড়ে।
.
- তোমার জন্য এমনটা হয়েছে। এখন কি ভাববে সবাই? ভাববে আমি রান্না করতে পারিনা।
 - কিছু হবেনা।
- বললেই হলো কিছু হবেনা।
- হুমম।
- এইবার নাও। খেয়ে দেখো কেমন হয়েছে।
.
স্নিগ্ধা চাঁমচ দিয়ে পিয়াসকে খাইয়ে দেয়। ভাল হয়েছে রান্নাটা কিন্তু পিয়াস একটু মজা করে বলে।
.
- অনেক ঝাল হয়েছে।
- বেশি ঝাল হয়েছে?
- হুমম অনেক। মুখ পুড়ে যাচ্ছে। এইবার মিষ্টি লাগবে।
- ফ্রিজ থেকে নিয়ে খাও।
- উঁহুম এই মিষ্টিতে কাজ হবে না।
- তাহলে?
.
পিয়াস স্নিগ্ধাকে কাছে টেনে তার ঠোঁটে চুমু একে দেয়।
.
- এইতো এখন ঠিক আছে। এই মিষ্টিটাই সব ঝালকে হার মানায়।
.
কথাটি বলেই রান্নাঘর থেকে দৌঁড়ে চলে যায়। আসলেই পৃথিবীর সব মিষ্টিকেই হার মানায়। এভাবেই কাটছিলো তাদের দিনকাল।
.
কিছুদিন পরঃ বাড়িটা খুব সুন্দর করে সাঁজিয়েছে। বাতির আলোতে বাড়িটা খুব সুন্দর লাগছে। বাড়িতে মেহমান সবাই এসেছেন। মানুষে ভরপুর ছিলো বাড়িতে। হৃদয় ও গ্রাম থেকে আসে। পিয়াসের আত্বীয়রাও এসে পড়েছে। সবার হাসি-খুশিতে বাড়িটা একেবারে নতুন মনে হচ্ছে।পিয়াসের বাবাও দেশে ফিরে আসে। স্নিগ্ধার বাবা সব ব্যস্ত কাজ ফেলে রেখে এসেছেন সেইদিন। সব ব্যস্ত কাজই যেনো সেইদিনটাই হয়ে গেলো।
.
পিয়াস, হৃদয়, নাদিম তিন বন্ধু মিলে মজা-মাস্তি করছে। এই প্রথম পিয়াসদের বাড়িতে এতো আনন্দ হচ্ছে। হ্যাঁ সেই দিনটা ছিলো পিয়াস এবং স্নিগ্ধার খুব আনন্দের দিন। ঐ দিনই তাদের এংগেজ হয়। পিয়াস স্নিগ্ধার হাতে আংটি পড়িয়ে দেয়। খুব ধুমধাম করে তাদের এংগেজ হয়।
.
সবাই খুব খুশি। ভাল থাকুক সবাই, ভাল থাকুক পিয়াস এবং স্নিগ্ধা। এবং তাদের এই বন্ধনটা চিরদিনের জন্য হউক। সবাই দোয়া করবেন তাদের জন্য। এবং ভাল থাকুক পৃথিবীর সকল ভালবাসার মানুষ গুলো।
.
.
( সমাপ্ত )

Comments